সোমবার সকালে এ সংঘর্ষের পর বোয়ালখালীর আরাকান সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল শ্রমিকরা। বেতন পাওয়ার আশ্বাস পেয়ে বিকালে সড়ক ছেড়ে যায় শ্রমিকরা।
স্থানীয়রা জানায়, কালুরঘাট সেতু সংলগ্ন বোয়ালখালী উপজেলায় রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সকাল ৮টায় কারখানা ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। মালিকপক্ষ তাদের কারখানার ভেতরে ঢুকতে না দিলে শ্রমিকরা রাস্তা আটকে দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের লাঠিপেটা এবং শ্রমিকদের ইট নিক্ষেপে উভয় পক্ষেই বেশ কয়েক জন আহত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) তারিকুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালে শ্রমিকরা বেতনের জন্য কারখানার সামনে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ইটের আঘাতে কয়েক পুলিশসহ কয়েকজন আহত হয়েছে।”
বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সঞ্জয় সেন জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছয় পুলিশ ও চার শ্রমিকসহ ১০ জন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। আহতরা সবার দেহেই ইটের জখম ছিল। তবে তাদের কারও আঘাতই গুরুতর নয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দুই মাসের বেতন বকেয়া রেখে গত ১৬ মার্চ কারখানার কাজ বন্ধ করে দেয় মালিক পক্ষ। দাবির মুখে ৩ এপ্রিল কারখানার কাজ চালু করে বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী রোববার তারা এলে মালিকপক্ষ সোমবার বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সোমবার আসার পর কারখানায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না।
প্রশাসনের তাগিদে দুপুরের পর কারখানার কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বলে জানান বোয়ালখালীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই কারখানায় বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের বেতন বকেয়া পড়ে। মাস খানেক আগেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “সম্প্রতি দুই মাসের বেতন বকেয়া রেখে কারখানা কর্তৃপক্ষ কাজ সাময়িক বন্ধ রাখে। শ্রমিকরা সকালে বেতনের জন্য এসে কারখানায় ঢুকতে না পেরে বিক্ষোভ শুরু করে এবং সড়কে ব্যারিকেড দেয়।”
ভারপ্রাপ্ত ইউএনও তাহমিনা বিকালে বলেন, “আমরা সকাল থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। তারা কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেন না। এ অবস্থায় শ্রমিকরাও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। দুপুরের পর কারখানার ডিজিএম এসেছেন। তার সাথে আলোচনা চলছে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের বিষয়ে।”
কারখানা কর্তৃপক্ষ বেতন
দেওয়ার আশ্বাস দিলে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যায় বলে জানান চট্টগ্রামে
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুর রহমান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে বলেন, “শ্রমিক, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে মালিক পক্ষের
বৈঠকে হয়েছে। সেখানে আগামী ১২ এপ্রিল গত ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন এবং ওইদিন আলোচনা
করে মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের তারিখ ঠিক করার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর শ্রমিকরা রাস্তা
থেকে সরে যায়।”
বিক্ষোভের কারণে সকাল থেকে বোয়ালখালী আরাকান সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় শহর থেকে বোয়ালখালী ও বোয়ালখালী থেকে শহরের দিকে আসা বিভিন্ন যানবাহন মূল সড়কের পরিবর্তে কালুরঘাট সেতুর নিচের রাস্তা ব্যবহার করে চলাচল করছিল।