ক্যাটাগরি

টিপ পরে প্রতিবাদ নিয়ে কটূক্তি: সিলেটে পুলিশ পরিদর্শককে সরানো হল

লিয়াকত আলী নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তা সিলেট আদালতে কোর্ট ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত
ছিলেন। সোমবার রাতে তাকে প্রত্যাহার
করে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছে বলে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে তিনি বলেন, “ফেইসবুকে নেতিবাচক মন্তব্য করায় কোর্ট ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীকে ক্লোজড
করা হয়েছে।”        

কপালে টিপ পরায় এক পুলিশ
সদস্যের হাতে হেনস্তার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে গত শনিবার ঢাকার তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার
অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজের প্রভাষক লতা সমদ্দার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া
হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানান অধিকারকর্মীরা।
প্রতিবাদ ওঠে সংসদেও।

পুরুষরাও অনেকে নিজেদের
কপালে টিপ পরে সেই ছবি ফেইসবুকে দিয়ে প্রতিবাদে শামিল হন। শেষ পর্যন্ত এক পুলিশ কনস্টেবলকে
চিহ্নিত করে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ কর্তৃযক্ষ।

এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই সিলেটের পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী সোমবার
ফেইসবুকে লেখেন- “প্রসঙ্গ: টিপ নিয়ে নারীকে
হয়রানি। ফালতু ভাবনা: (18+) টিপ নিয়ে নারীকে হয়রানি
করার প্রতিবাদে অনেক পুরুষ নিজেরাই কপালে টিপ লাগাইয়া প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কিন্তু আমি
ভবিষ্যৎ ভাবনায় শঙ্কিত।”

বিভিন্ন শহরে অনেক নারী ‘খোলামেলা পোশাক পরে’ চলাফেরা করেন মন্তব্য করে ওই পুলিশ
কর্মকর্তা প্রশ্ন করেন, ‘ওইভাবে’ বক্ষবন্ধনী পরার কারণে কোনো নারীকে হয়রানি করা হলে
‘আজকে কপালে টিপ লাগানো প্রতিবাদকারী’ পুরুষরা একইভাবে ‘ব্রা পরে’ প্রতিবাদ করবেন কি
না। 

তার ওই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা ঝড় ওঠে। পরে সন্ধ্যায় লিয়াকত আলী নিজের ফেইসবুক ওয়াল থেকে পোস্টটি
মুছে দেন। 

ওই মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি নারী বিদ্বেষী নই। ব্যক্তিগত প্ল্যাটফরম ফেইসবুকে আমি
ব্যক্তিগত মতামত জানিয়েছি মাত্র।”

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, “পুরুষের টিপ পরা নিয়ে প্রতিবাদের বিরুদ্ধে গিয়ে একজন কর্মকর্তার এ ধরনের বিরূপ
মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। এ কারণে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”