যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে মঙ্গলবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই গণশুনানির শুরুতে বিমানের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।
পরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বিমান বাংলাদেশের এয়ালাইন্স প্রতিনিধিকে ডেকে পাঠান।
বিমানবন্দরের বহির্গমন কনকোর্স হলে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত এই এয়ারলাইন্স। শুনানির শুরুতেই বিমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন সৌদি আরব প্রবাসী কুমিল্লার রিয়াদ সরকার।
তিনি বলেন, “মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় বিমানের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরব যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে বিমানবন্দরে এসে জানতে পারলেন ফ্লাইটটি ‘লেইট’। এ বিষয়ে জানতে তিনি বিমানের কাউন্টারে গিয়েও সহযোগিতা পাননি।”
ক্ষুব্ধ রিয়াদ বলেন, “বিমানের কাউন্টারে গেলে তারা আমার সঙ্গে ভিক্ষুকের মতো আচরণ করেছেন।”
রিয়াদের অভিযোগ শুনে বেবিচক চেয়ারম্যান বিমানের প্রতিনিধির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য খুঁজতে থাকেন। কিন্তু দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরা থাকলেও সেখানে বিমানের কাউকে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে বেবিচক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান বিমানের প্রতিনিধিকে ‘পাঁচ মিনিটের মধ্যে’ গণশুনানিতে উপস্থিত হতে বলেন।
যাত্রী রিয়াদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আপনার সঙ্গে এমন ঘটনার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। দুঃখ লাগছে আপনি সকালে এসেছেন, দুপুরে ফ্লাইট, এখন রাতে যাচ্ছেন।
“অথচ বিলম্বের বিষয়টি বিমান আপনাকে জানায়নি। এটা বিমান ঠিক করেনি। এটার জন্য এয়ারলাইন্সকে আমরা ধরব।”’
মিনিট দশেক পর গণশুনানিতে উপস্থিত হন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের স্টেশন ম্যানেজার আরিফুজ্জামান খান। তিনি রিয়াদ সরকারের অভিযোগ শুনে বলেন, “আমরা দুঃখপ্রকাশ করছি। ওনার অভিযোগের বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
গণশুনানিতে প্রবাসী গোলাম মোস্তফা অভিযোগ তোলেন বিমানের বিলম্ব নিয়ে। তিনি বলেন, “বিমানের ফ্লাইট সব সময় ডিলে হয়। কখনও ঠিক সময়ে ছাড়ে না। এটা কেন?”
জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিমানের কাছে ব্যাখ্যা চাইব ফ্লাইট কেন বিলম্ব হয়।”
বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গোলাম মোস্তফা। তিনি শাহজালাল বিমান বন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।
এই বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করা জর্জিয়ার নাগরিক কার্ল অগাস্টন গণশুনানিতে অংশ নেন। তিনি বাংলাদেশের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন। তবে ওয়াইফাই সুবিধা না থাকার বিষয়ে অভিযোগ জানান।
অগাস্টনের অভিযোগের জবাবে মফিদুর রহমান বলেন, “বিমানবন্দরের আগমনী টার্মিনালে সব যাত্রীর জন্য ওয়াইফাই ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু, বহির্গমনে ওয়াফাই নেই। তবে দ্রুত এ ব্যবস্থা করা হবে।”
গণশুনানিতে অপর এক প্রবাসী কুমিল্লার তৌহিদুল ইসলাম বিমানের সেবার মান এবং ভাড়া নিয়ে অভিযোগ করেন।
“আবুধাবি থেকে আমি ৫০ হাজার টাকায় যাওয়া-আসার টিকেট কিনতে পেরেছি। কিন্তু বিমানে আবুধাবিসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে টিকেট কিনতে গেলে কেবল যাওয়ার জন্য ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা গুনতে হয়। এটা কেন?”
তৌহিদুলের অভিযোগের জবাবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, “টিকেটের দাম মূলত এয়ারলাইন্সের বিষয়। এয়ারলাইন্সের সঙ্গে বসে সরকারের পক্ষ থেকে এ দাম কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।”
তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যাত্রীর তুলনায় উড়োজাহাজের সংখ্যা কম। এ কারণে অন্য দেশের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেতে ভাড়া বেশি। বিমান ইতোমধ্যে ভাড়া কমিয়েছে, ধারণক্ষমতা বাড়িয়েছে।
কেবল যাত্রী এবং আমন্ত্রিতদের উপস্থিতিতে এ গণশুনানিতে ছিলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদায়ী নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান, নব নিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের কমান্ডিং অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম খান।