ক্যাটাগরি

ইউরোপীয় কর্মকর্তারাও ইসরায়েলি স্পাইওয়্যারের শিকার

ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের নজরদারি চেষ্টার
শিকার হওয়ার কথা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই কর্মকর্তা। এ ছাড়াও,
ওই ঘটনা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেখার সুযোগ হয়েছে বার্তাসংস্থাটির।

ইসরায়েলি স্পাইওয়্যারের ভুক্তভোগীদের
মধ্যে ছিলেন বেলজিয়ামের জনপ্রতিনিধি ডিডিয়ের রেইনডার্স, ২০১৯ সাল থেকে ‘ইউরোপিয়ান জাস্টিস
কমিশনার’ পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে ও নিজস্ব সূত্রের বরাতে
রয়টার্স জানিয়েছে, স্পাইওয়্যার নজরদারির শিকারি হয়েছিলেন অন্তত আরও চার ইউরোপীয় কমিশন
কর্মকর্তা।

নাম গোপন রাখার শর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের
দুই কর্মকর্তা স্পাইওয়্যার নজরদারি চেষ্টার খবর নিশ্চিত করেছেন রয়টার্সকে।

ইউরোপীয় কমিশন সাইবার হুমকি সম্পর্কে
জেনেছিল অ্যাপলের সতর্কবার্তা থেকে। গেল বছরের নভেম্বর মাসে কয়েক হাজার আইফোন ব্যবহারকারীর
কাছে অ্যাপল মেসেজে দিয়ে বলেছিল ‘রাষ্ট্রসমর্থিত হ্যাকাররা টার্গেট করেছেন তাদের’।
ব্যাপক সংখ্যক ব্যবহারকারীর কাছে অ্যাপলের সতর্কবার্তা পাঠানোর প্রথম ঘটনা ছিল এটি।

অ্যাপলের সতর্কবার্তায় ইউরোপীয় কমিশন
তাৎক্ষণিকভাবে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন ওই দুই ইইউ কর্মকর্তা। কমিশনের
এক জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি কর্মকর্তার ২৬ নভেম্বর পাঠানো ইমেইল দেখেছে রয়টার্স। তাতে ইসরায়েলি
হ্যাকিং টুল কীভাবে কাজ করে তার ব্যাখ্যা দিয়ে অ্যাপলের কাছ থেকে আরও কোনো সতর্কবার্তা
আসে কী না, সে দিকে খেয়াল রাখতে বলেছিলেন তিনি।

“আপনাদের দায়িত্বগুলো বিবেচনায় নিলে
বলতে হবে, আপনি একজন সম্ভাব্য টার্গেট,” ইমেইলে সতর্ক করে দিয়ে বলেন ওই কর্মকর্তা।

ইউরোপীয় কমিশনের কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েলি
স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে কে নজরদারির চেষ্টা করেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।
স্পাইওয়্যার সংক্রমণ চেষ্টা সফল হয়েছিল কি না, হলে কোন ধরনের তথ্য হ্যাকাররা চুরি করে
নিয়েছে, সেটিও নিশ্চিত হতে পারেনি বার্তা সংস্থাটি।

রয়টার্সের যোগাযোগের চেষ্টায় সাড়া দেননি
রেইনডার্স এবং তার মুখপাত্র ডেভিড মারেকাল। এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র ইওহানেস বাহর্কে ও অ্যাপল।

তবে, সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের বরাত
দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন যারা, তারা ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে
সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ‘ফোর্সডএন্ট্রি’ সফটওয়্যারের টার্গেট হয়েছিলেন। সফটওয়্যারটির
নির্মাতা বিতর্কিত ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে
দূর থেকে আইফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করতো সফটওয়্যারটি।

তবে এনএসও গ্রুপের দাবি, কোনো হ্যাকিং
চেষ্টার জন্য তারা দায়বদ্ধ নয়। আর রয়টার্সের বিবরণে যেভাবে ভুক্তভোগীদের টার্গেট করার
কথা বলা হয়েছে, সেটা ‘এনএসও-র টুল দিয়ে সম্ভব নয়’ বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বেশ কয়েকটি মামলার মুখে রয়েছে এনএসও
গ্রুপ। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে
প্রতিষ্ঠানটি। এমন বিরূপ পরিস্থিতিতে এনএসও গ্রুপের দাবি, ভুক্তভোগীদের টার্গেট করার
প্রক্রিয়া তদন্তকে স্বাগত জানাচ্ছে তারা এবং বৈশ্বিক স্পাইওয়্যার শিল্প নিয়ন্ত্রণের
জন্য আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠার ডাকও দিয়েছে তারা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই সূত্রের বরাত দিয়ে
রয়টার্স জানিয়েছে, অ্যাপলের কাছ থেকে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর অন্তত কিছু কর্মকর্তার
ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখছিলেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তবে, কোনোবারেই হ্যাকিং
সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি তারা।

ইউরোপীয় কমিশন এই বিষয়ে এখনও তদন্ত চালাচ্ছে
কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ
করে স্পাইওয়্যার নির্মাতাদের দিকে নজর দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এমন সময়ে এলো ইউরোপীয়
কমিশন কর্মকর্তাদের ওপর এনএসও’র তৈরি স্পাইওয়্যার ব্যবহার চেষ্টার খবর।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় সদস্যদের ওপর নজরদারি
সফটওয়্যার ব্যবহার তদন্তের লক্ষ্যে ১৯ এপ্রিল একটি বিশেষ কমিটির কার্যক্রম চালু করার
কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাচ জনপ্রতিনিধি সোফি ইনট’ফেল্ড; ওই কমিটি গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

ইউরোপীয় কমিশনের কর্মকর্তারাও যে এনএসও
স্পাইওয়্যারের টার্গেট ছিলেন, সে বিষয়ে অবহিত ছিলেন না বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইনট’ফেল্ড;
রয়টার্সের খবরকে ‘ডায়নামাইট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

“আমাদের এর গভীরে যেতেই হবে,” স্পাইওয়্যার
তদন্ত প্রসঙ্গে বলেন তিনি।

পোল্যান্ডের বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের
ফোন ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার এবং হাঙ্গেরির প্রখ্যাত সংবাদকর্মী ও সমালোচকরা একইভাবে স্পাইওয়্যারের
শিকার হয়েছিলেন– এ খবর প্রকাশের পর গঠন করা হয়েছে ওই তদন্ত কমিটি।

এনএসও’র সফটওয়্যার কেনার খবর নিশ্চিত
করেছেন পোলিশ কর্মকর্তারা এবং হাঙ্গেরির ক্ষমতাশীল দল। তবে নিজ দেশের নাগরিক বা প্রতিপক্ষের
ওপর এর ব্যবহারের খবর অস্বীকার করেছে উভয় পক্ষ।