ক্যাটাগরি

তাড়াশ পৌরসভার ‘অনিয়ম, দুর্নীতি’ তদন্তে দুদক

দুদক সিরাজগঞ্জ-পাবনা
আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি মোস্তাফিজুর রহমান গত ১১ এপ্রিল তাড়াশ পৌরসভা
পরিদর্শনে আসেন।

শুক্রবার যোগাযোগ করা
হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলেন।

মোস্তাফিজুর রহমান
বলেন, “তাড়াশ পৌর শিশুপার্ক, অফিসার্স ক্লাব, পৌর এলাকায় আলোকবাতি স্থাপনসহ বেশ কয়েকটি
উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করেছি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান
থাকায় ইতোমধ্যে ঢাকা অফিসে প্রতিবেদন জমাও দেওয়া হয়েছে।”

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে
বিস্তারিত তথ্য জানাতে রাজি হননি এই দুদক কর্মকর্তা।

২০১৭ সালে তাড়াশ উপজেলার
সদর ইউপির অধিকাংশ এলাকা এবং বারুহাস ও মাধাইনগর ইউনিয়নের একাংশ মিলে গঠিত হয় তাড়াশ
পৌরসভা।

পৌরসভা গঠিত হলেও পাঁচ
বছরেও ভবন নির্মাণ হয়নি। উপজেলা পরিষদের একটি কক্ষে স্থাপিত হয়েছে অস্থায়ী অফিস।

নাগরিকরা পৌর সেবা
পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে
পৌরসভায় উন্নীত হওয়ায় ইউপি থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সেবা দেন পৌরসভায়। তারা বেতন
নেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে।

তাড়াশ সদরের দন্ত চিকিৎসক
মফিদুল ইসলাম বলেন, “শুধু নামেই পৌরসভা। সবকিছু চলছে আগের মতই। বাড়তি কোনো সেবা কার্যক্রম
নেই। পৌর এলাকায় চলাচল করা যানবাহন থেকে পৌর টোল আদায় এবং ট্রেড লাইন্সেস দিয়ে ব্যবসায়ীদের
কাছ থেকে টাকা আদায় ছাড়া পৌরসভার কার্যক্রমে আর কিছু তো চোখে পড়ে না।” 

নাম প্রকাশ না করা
শর্তে এক প্রভাষক বলেন, “নতুন পৌরসভার নাগরিকরা কোনো সুবিধা না পেলেও বাজেট বরাদ্দ
যা হচ্ছে তা কর্তৃপক্ষই গিলে খাচ্ছে। আমরা দৃশ্যমান কোনো পৌর সুবিধা পাচ্ছি না। অনিয়ম
ও অন্যায়ের প্রতিবাদ মানুষ কোন সাহসে করবে। দুদক টিম এসে যে তথ্য-প্রমাণ নিয়ে গেছে,
অন্যায়কারীদের শাস্তি দেওয়ায় জন্য তা-ই যথেষ্ট। অপেক্ষায় আছি, দেখি কী হয়।”

তাড়াশ সদর ইউপির ২
নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আতিকুল ইসলাম বকুল বলেন, “পৌরসভার বাজেটে নানা কার্যক্রম চললেও
জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয় না। পৌর সচিব একাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। মাঝে মধ্যে
লোক দেখানো সভা করেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের মতামতের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। সচিবের
পছন্দের লোকদের দিয়ে ‘টিআর’সহ অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে নয়-ছয় হলেও দেখার
কেউ নেই।”

তাড়াশ সদর ইউপির ১
নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, “আমরা এখনও ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই সম্মানী ভাতা
পাই। পৌরসভা চলে সচিবের একক নির্দেশনায়। কোনো প্রকল্পে সভাপতি করা হলেও আমাদের মতামতের
গুরুত্ব দেওয়া হয় না।”

উল্লাপাড়া সরকারি আকবর
আলী কলেজের সাবেক ভিপি আশরাফুল ইসলাম ভূইয়া তাড়াশ পৌরসভা গঠনের পর থেকে পৌর সচিবের
দায়িত্বে রয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে তিনি জানান, দুদকের টিম প্রকৌশল শাখার মাধ্যমে নির্মিত রাস্তা-ঘাট, পিআইও শাখার
প্রকল্পসমূহসহ ২১টি প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন এবং এসব প্রকল্পের নথিপত্র নিয়ে গেছেন।

অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, “আমরা সবকিছু স্বচ্ছভাবে করছি, কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। সব জায়গাতেই
কিছু খারাপ লোক থাকে, তারাই হয়তো দুদকে অভিযোগ দিয়েছে।”

বাজেট অধিবেশন না হওয়া
প্রসঙ্গে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন জনপ্রতিনিধি অটো হিসেবে পৌরসভায় যুক্ত হয়েছেন।
পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশন করা হয় না।

মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা
বাজেট প্রসঙ্গে বলেন, প্রতি বছর ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ
পাওয়া গেছে। আগের বছরগুলোতে পাওয়া কিছু টাকা খরচ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের টাকা এখনও খরচ
হয়নি।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মেজবাউল করিম বলেন, “তাড়াশ পৌরসভার বেশকিছু উন্নয়ন কার্যক্রম
টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাই টেন্ডার করা হয়নি। দুদক টিম কিছু
কার্যক্রম দেখার জন্য এসেছিল। তারা আমাদের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে চলে গেছেন।”

একই অফিসে পৌর সচিব
দীর্ঘ সময় থাকা প্রসঙ্গে পৌর প্রশাসক বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্বান্তে তিনি এখানে আছেন।
এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন।