বুধবার সকাল থেকেই ওই এলাকায় নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত ও ঢাকা কলেজের সামনের সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। সোমবার মধ্যরাতে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত রাস্তা ছিল কার্যত রণক্ষেত্র।
ফের সংঘাত এড়াতে চন্দ্রিমা মার্কেট ও নুর ম্যানশন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান করছেন পুলিশ সদস্যরা। সকালে ঢাকা কলেজের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি।
সকালে যান চলাচল শুরুর পর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় গাড়ির ভিড় বেড়েছে। দোকান কর্মচারীরা মার্কেট এলাকায় থাকলেও নির্দেশনা না পাওয়ায় দোকান খোলেননি।
নীলক্ষেত মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য জাহাঙ্গীর বলেন, “সকাল থেকে গাড়ি চলাচল করছে, পরে কী হবে জানি না।”
এদিকে দোকান খোলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন দোকান মালিক সমিতির নেতারা।
নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শাহীন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাতে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল ভাই (হেলাল উদ্দিন) আর আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। উনাকে বলেছি, আমাদের তো অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে ঈদের সময়, যা হয়েছে হয়েছে, এখন আজ (বুধবার) থেকে দোকান খুলতে চাই।
“মন্ত্রী বলেছেন, আজ তিনি শিক্ষামন্ত্রীসহ সবার সাথে কথা বলবেন। এখানে অনেক ছাত্র আছে, দোকান কর্মচারী আছে, আবার যাতে কোনো সংঘর্ষ না বাঁধে, সব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
অনুমতি পেলে দোকান খোলার কথা জানিয়ে শাহীন বলেন, “আজ দুপুর ১২টার দিকে আমরা আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করব। উনি অনুমতি দিলে দোকান খুলব।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি উনাদের বলেছি ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। সাত কলেজের ছাত্ররা নাকি ঢাকা অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নুরুল হক নূররাও ওদের সাথে শামিল। ইডেনের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামার কথা বলেছে বুঝে হোক আর না বুঝে হোক।
“পরিস্থিতি যাতে আর ঘোলা না হয়, সেজন্য আমি বলেছিল ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে পরিস্থিতি দেখে তারপর দোকান খুলতে।”
‘সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে’ নিউ মার্কেটে সংঘাত শুরুর ভিন্ন কারণ
ব্যস্ত নিউ মার্কেট এলাকায় দিনভর সংঘাত, কার কী দায়?
পরিস্থিতি এখন মার্কেট খোলার জন্য অনুকূল বলে মনে করেন কি না- এই প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “এখন পর্যন্ত অনুকূলে, যদি এরকম থাকে, সব দেখে আমরা খুলে দেব।”
নিউ মার্কেটের নূর ম্যানশনের নিরাপত্তাকর্মী মো. বশির জানান, দোকান না খুললেও দোকানদাররা সবাই মার্কেটে চলে এসেছেন আসছে। অনেকে কলাপসিবল গেইটে দাঁড়িয়ে আছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় নিউ মার্কেটের ৪ নম্বর গেইটের কাছে দুই দোকানের কর্মচারীদের মধ্যে ঝামেলার জেরে রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সেই সংঘাত মঙ্গলবার সকাল থেকে সারাদিন চললে সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহত ও এক কুরিয়ার সার্ভিস কর্মী মারা যান।
এক দোকানে খেতে যাওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দোকানকর্মীদের তর্কাতর্কি থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে প্রথমে বলা হয়েছিল ব্যবসায়ী ও পুলিশের তরফ থেকে। তবে পরে এক সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে ভিন্ন ঘটনার কথা উঠে আসে।
নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শাহীন আহমেদ মঙ্গলবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুই দোকানের রেষারেষি থেকে এই সংঘাতের সূত্রপাত বলে তিনি একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখতে পেয়েছেন।”
তবে তার দাবি, মঙ্গলবার দিনভর যে সংঘর্ষ হল, তাতে দোকান মালিক বা কর্মচারীরা ছিল না।
“হেলমেট পড়া যারা রাস্তার মাঝের ব্যারিয়ার থেকে লোহার টুকরো ভাঙল, তারা কারা? তারা তো বহিরাগত।”
সংঘাত থামাতে এত দীর্ঘ সময় লাগায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বেশি সময় লেগেছে এটা ঠিক। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি ক্যাজুয়ালটি কমিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে। সেজন্যই সময় লেগেছে।”
নিউ মার্কেটের সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু
নিউ মার্কেটে সংঘর্ষের মধ্যে সাংবাদিকরাও আক্রান্ত, অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর
নিউ মার্কেটের সেই ফটকের সামনে আবর্জনার স্তূপ
সরেছে ময়লার স্তূপ
মঙ্গলবার সকালে সংঘর্ষের সময় নিউ মার্কেটের উত্তর-পূর্ব কোণের ৪ নম্বর ফটক ও দুই নম্বর ফটকের (বলাকা সিনেমার বিপরীতে) সামনে রাখা ময়লার স্তূপ সরানো হয়েছে।
নিউ মার্কেটের দোকানকর্মীদের অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের জের ধরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সকালে ভ্যানে করে আবর্জনা এনে ফেলে রেখে যায়, যাতে দোকান না খুলতে পারে।
মঙ্গলবার দিনভর ওই আবর্জনার স্তূপ সেখানে পড়ে থাকলেও বুধবার সকালে আর সেই স্তূপ দেখা যায়নি।
মার্কেটের কর্মচারীরা জানান, মার্কেটের পরিচ্ছন্ন কর্মী দিয়ে ওই আবর্জনা সরানো হয়েছে।