রাশিয়ার বাহিনীগুলো ইউক্রেইনের
রাজধানী কিইভ দখল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।
নয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেইনের বহু শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, কয়েক হাজার
লোক নিহত ও ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
ইউক্রেইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর
খেরসন পুরোপুরি ও পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মারিউপোলের অধিকাংশই দখল করে নিয়েছে মস্কোর
বাহিনীগুলো। তারা মারিউপোলের বিশাল একটি ইস্পাত শিল্প কারখানার নিয়ন্ত্রণ এখনও নিতে
পারেনি, সেখানে ইউক্রেইনের কয়েক হাজার সামরিক, বেসামরিক ও আহত সেনা আটকা পড়ে আছে। তাদের
সরিয়ে নিতে জাতিসংঘের একটি উদ্যোগ এখন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে,
ইউক্রেইন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা চলমান থাকলেও ২৯ মার্চ থেকে তারা আর মুখোমুখি
বসেনি, ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার বাহিনীগুলো কিইভের কাছ
থেকে সরে যাওয়ার সময় নৃশংসতা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করছে ইউক্রেইন। রাশিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার
করেছে আর এ নিয়ে আলোচনার পরিবেশ তিক্ত হয়েছে।
প্রায় ৩০ লাখ ইউক্রেইনীয়কে আশ্রয়
দেওয়া প্রতিবেশী পোল্যান্ডে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা
চালিয়ে যাওয়া যাবে কি-না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার নৃশংসতা নিয়ে জনগণের
মধ্যে দেখা দেওয়া ক্ষোভের কারণে আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
“আলোচনা শেষ হয়ে যাবে এমন ঝুঁকি
খুব বেশি। এর কারণ তারা (রুশরা) পেছনে যা রেখে গেছে, তা হল লোকজনকে হত্যার করার একটি
প্লেবুক তাদের আছে এমন ছাপ,” পোলিশ সাংবাদিকদের তিনি এমনটি বলেছেন বলে তাকে উদ্ধৃত
করে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স।
মস্কো জানিয়েছে, ইউক্রেইন যুক্তরাষ্ট্রের
নেতৃত্বাধীন নেটো সামরিক জোটে যোগ দিতে পারে, এমন সম্ভাবনার মুখে তারা দেশটিকে নিরস্ত্র
ও নব্যনাৎসীমুক্ত করতে সেখানে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালাচ্ছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই
ল্যাভরভ বলেছেন, আলোচনার ক্ষেত্রে ইউক্রেইন যদি ‘সৎ’ হতো তাহলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা
পরিষদের দেশগুলো থেকে কিইভকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হতো।
“তাদের অসঙ্গতির কারণে, সব সময়
তাদের গেম খেলার প্রবণতার কারণে আমরা আটকে গেছি। যতদূর অনুমান করতে পারি, শান্তি আলোচনা
ত্বরান্বিত না করার জন্য ওয়াশিংটন, লন্ডন ও অন্যান্য রাজধানী থেকে যে নির্দেশনা তারা
পায় তাই এর কারণ,” রুশ বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ এমনটি বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য, উভয়েই
শান্তি আলোচনার বিষয়ে ইউক্রেইনকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানালেও কিইভকে অস্ত্র সরবরাহ করা
জরুরি বলেও দাবি করেছে।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৃহস্পতিবার
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে ইউক্রেইনের জন্য ৩৩ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা মঞ্জুর করার জন্য
আহ্বান জানিয়েছেন, এর মধ্যে ২০ বিলিয়নের বেশি হবে অস্ত্র সহায়তা।
আরও পড়ুন:
রুশ বাহিনীর পতন ঘটবে কয়েকসপ্তাহেই: ব্রিটিশ সামরিক বিশেষজ্ঞ
ইউক্রেইনে যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য
জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরের মধ্যেই কিইভে জোড়া বিস্ফোরণ
রুশ আক্রমণের পর ইউক্রেইনের ভুট্টার প্রথম কার্গো ছাড়ল রোমানিয়ার বন্দর