এই
দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের চৌরঙ্গি মোড়ে স্থানীয় ‘চা বাগান মালিক সমিতি’ এবং
‘চা চাষী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ’ যৌথভাবে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
কর্মসুচি
চলাকালে চাষিরা সড়কে কাঁচা চা পাতা বিছিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন।
সমাবেশে
বাগান মালিক সমিতির নেতা ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান
শেখ মিলন বলেন, চা পাতা সংগ্রহের এই ভরা মৌসুমে কৃষকদের ঠকিয়ে কারখানার মালিকরা ‘সিন্ডিকেট
করে’ প্রতিবছর চা পাতা ক্রয় করছে। শুধু কম দামে নয় বিভিন্ন অজুহাতে ইচ্ছেমত দাম
কর্তন করেই চলছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
“মৌসুমের
শুরুতে ২০ থেকে ২২ টাকা কেজিতে চা পাতা ক্রয় করলেও বর্তমানে ১২/১৩ টাকাও প্রতি
কেজি চা পাতার মূল্য পাচ্ছে না চাষিরা।”
‘চা
চাষী অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির’ সভাপতি আবু সাইদ বলেন, উৎপাদন খরচের থেকে কম দামে
চা পাতা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে চাষিরা। নিলাম বাজারে চায়ের ভালো দাম না পাওয়ার
দোহাই দিয়ে প্রতি বছর সিন্ডিকেটের কারণে কারখানা মালিকরা চাষিদের কাছ থেকে কোটি
কোটি টাকা কৌশলে ঠকিয়ে নিচ্ছে।
অমরখানা
ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু বলেন, “রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিলাম বাজারে চা
বিক্রয় না করে রাতের আঁধারে চোরাই পথে চা বিক্রয় করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে
পঞ্চগড়ের চা শিল্প ধ্বংশ হওয়ার আশংকা
রয়েছে।”
বক্তারা
অবিলম্বে চা চাষিদের কাঁচা পাতার মূল্য বৃদ্ধি না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
দেন এবং সমস্যা সমাধানে প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এর আগে
বুধবার সন্ধ্যায় একই দাবিতে তেঁতুলিয়া উপজেলা চা চাষিদের আয়োজনে মানববন্ধন ও
প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ
বিষয়ে পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ড কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.
মোহাম্মদ শামিম আল মামুন বলেন, চাষিদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর পঞ্চগড়ের চা
প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার মালিক ও চাষিদের সাথে কথা হয়েছে। করণীয় ঠিক করতে জেলা
প্রশাসকের কার্যালয়ে আগামী ১৮ মে বিকালে বাগান মালিক, চা চাষি ও জনপ্রতিনিধিদের
নিয়ে জরুরি সভার আয়োজন করা হয়েছে। দুই
পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।