ক্যাটাগরি

জয়ের বিদায়ের পর তামিমের সেঞ্চুরি

তৃতীয় দিন

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৯৭

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫২ ওভারে ১৬৯/১

 

তামিমের সেঞ্চুরি নম্বর ১০

৯৫ থেকে পেসার আসিথা ফার্নান্দোকে পুল করে চার মেরে তামিম ইকবাল পৌঁছে গেলেন ৯৯ রানে। পরের বল লেগ সাইডে ঠেলে তিনি পা রাখলেন কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়, সেঞ্চুরি।

১৬২ বলে বাঁহাতি ওপেনার পূর্ণ করলেন সেঞ্চুরি। যেখানে চার ১২টি। 

টেস্টে ১৬ ইনিংস পর সেঞ্চুরি পেলেন তামিম। সবশেষ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যামিল্টনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১২৬ রানের ইনিংস।

সব মিলিয়ে এটি তার দশম টেস্ট সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল অধিনায়ক মুমিনুল হকের, ১১টি।

ঘরের মাঠ চট্টগ্রামে তামিমের এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। প্রথমটি ছিল সেই ২০১৪ সালের নভেম্বরে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০৯।

জয়ের বিদায়ে থামল জুটি

লাঞ্চ বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য পেল শ্রীলঙ্কা। মাহমুদুল হাসান জয়কে ফিরিয়ে ১৬২ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেন আসিথা ফার্নান্দো।

ডানহাতি পেসারের লেগ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল লেগ সাইডে ঘোরাতে চেয়েছিলেন জয়। বল তার গ্লাভস ছুঁয়ে জমা পড়ে কিপারের গ্লাভসে।

১৪২ বলে ৯ চারে তরুণ ওপেনার খেলেন ৫৮ রানের ইনিংস।

৪৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ১৬২।

১৫৫ বলে ৯৪ রানে খেলছেন তামিম ইকবাল। নতুন ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত।

বাংলাদেশের দারুণ সেশন

তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাটে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই সেশনে ২৮ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে স্বাগতিকরা তুলেছে ৮১ রান।

প্রথম ঘণ্টায় ১৪ ওভারে আসে ৫৮ রান। পরের ঘণ্টায় কমে আসে রানের গতি, ১৪ ওভারে ২৩।  

৩৫ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে দিনের শুরুতে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে তামিম তুলে নেন ফিফটি। পরে কমে যায় তার রান তোলার গতি। দেখেশুনে খেলে এখন তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন সেঞ্চুরির দিকে।

আগের টেস্টে জোড়া শূন্যর পর জয় এবার তুলে নিয়েছেন ফিফটি। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরপরই মনোযোগ হারিয়ে একবার ক্যাচ তুলে দেন তিনি, তবে সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন লাসিথ এম্বুলদেনিয়া।

উইকেট এখনও যথেষ্ট ব্যাটিং সহায়ক। শ্রীলঙ্কার বোলাররা খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।

লাঞ্চ বিরতিতে ৪৭ ওভারে বাংলাদেশের রান বিনা উইকেটে ১৫৭। এখনও পিছিয়ে ২৪০ রানে।

তামিম ১৫২ বলে ১০ চারে ৮৯ রানে খেলছেন। ১৩৪ বলে ৯ চারে ৫৮ রানে ব্যাট করছেন জয়।

বিশ্বর কনকাশন সাব রাজিথা

টেস্টের মাঝপথে একটি ধাক্কা খেল শ্রীলঙ্কা। আগের দিন ব্যাটিংয়ের সময় হেলমেটে বলের আঘাত পাওয়া বাঁহাতি পেসার বিশ্ব ফার্নান্দো ছিটকে গেলেন ম্যাচ থেকে। তার কনকাশন সাব হিসেবে একাদশে নেওয়া হলো আরেক পেসার কাসুন রাজিথাকে।

দ্বিতীয় দিন চা বিরতির একটু আগে পেসার শরিফুল ইসলামের বলে হেলমেটে আঘাত পান বিশ্ব। বিরতির পর তিনি আর ব্যাটিংয়ে নামেননি। পরে আবার ব্যাটিংয়ে নামেন, থাকেন অপরাজিত। বাংলাদেশের ইনিংসে বোলিং করেন তিনি ৪ ওভার। ৪ ওভার বোলিং করেন তৃতীয় দিন সকালেও। প্রথম ঘণ্টার পর তার ছিটকে যাওয়ার খবর আসে।

জীবন পেলেন জয়

ফিফটি করার পরপরই আউট হতে বসেছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তবে তার ক্যাচ ফেলেছেন লাসিথ এম্বুলদেনিয়া।

পেসার আসিথা ফার্নান্দোর শর্ট বল হুক করতে চেয়েছিলেন জয়। ব্যাটে খেলতে পারেননি ঠিকমতো। ফাইন লেগে সহজ ক্যাচ ফেলেন এম্বুলদেনিয়া, জীবন পাওয়ার পাশাপাশি জয় পেয়ে যান বাউন্ডারি।

তখন ৫১ রানে ব্যাট করছিলেন তরুণ ওপেনার। জীবন পাওয়ার পর এগিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন সঙ্গী তামিম ইকবাল। আবার মনোযোগী হয়ে ওঠেন জয়, ওভারের বাকি বলগুলো ছেড়ে দেন তিনি।

জোড়া শূন্যর পর জয়ের ফিফটি

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তবে দ্বিতীয় টেস্টে দুই ইনিংসেই তিনি আউট হন শূন্য রানে। সেই দুঃস্মৃতি পেছনে ফেলে তরুণ ওপেনার পরের টেস্টেই ঘুরে দাঁড়ালেন দারুণভাবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে করলেন ফিফটি।

৪৯ থেকে পেসার আসিথা ফার্নান্দোর বল লেগ সাইডে খেলে ডাবল নিয়ে জয় পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ১১০ বলে। পাঁচ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় ফিফটি।

৩৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান বিনা উইকেটে ১৪০।

১১৪ বলে ১০ চারে ৭৯ রানে খেলছেন তামিম ইকবাল, আর জয় ১১১ বলে ৮ চারে ৫১ রানে ব্যাট করছেন।

প্রথম ঘণ্টায় রানের জোয়ার

তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাটে তৃতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টা দুর্দান্ত কাটল বাংলাদেশের। এই সময়ে ১৪ ওভারে স্বাগতিকরা কোনো উইকেট না হারিয়ে তুলল ৫৮ রান। ওভারপ্রতি রান চারের বেশি।

দিনের শুরু থেকে দারুণ খেলছেন দুই ওপেনার। শ্রীলঙ্কার বোলাররা তেমন সুযোগই পাচ্ছেন না। সাবলীল আর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তামিম। ৩৫ রানে দিন শুরু করে তিনি অপরাজিত আছেন ১০৪ বলে ১০ চারে ৭৬ রানে।

আগের টেস্টে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হওয়া জয় খেলছেন দেখেশুনে। সুযোগ পেলে মারছেন বাউন্ডারি। ৯৮ বলে ৮ চারে তিনি খেলছেন ৪৮ রানে।

৩৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর বিনা উইকেটে ১৩৪।

জুটির সেঞ্চুরিতে কাটল খরা

বিশ্ব ফার্নান্দোর অফ স্টাম্পের বাইরের বল ডিপ পয়েন্টে পাঠিয়ে এক রান নিলেন তামিম ইকবাল। এতে মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গে তার উদ্বোধনী জুটি রান স্পর্শ করল শতরান। কাটল দীর্ঘ খরা।

টেস্টে ৬১ ইনিংস পর শতরানের উদ্বোধনী জুটি পেল বাংলাদেশ। এর আগে সবশেষ ২০১৭ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই গলে ১১৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন তামিম ও সৌম্য সরকার।

তৃতীয় দিনের শুরু থেকে সাবলীল ব্যাটিং করছেন তামিম। সুযোগ পেলেই মারছেন বাউন্ডারি। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন জয়।

২৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর বিনা উইকেটে ১০৪।

৭৯ বলে ৮ চারে ৫৭ রান ব্যাট করছেন তামিম, আর জয় ৭৫ বলে ৬ চারে ৩৭ রান খেলছেন।

আগ্রাসী ব‍্যাটিংয়ে তামিমের ফিফটি

৩৫ রানে ব্যাটিং শুরু করে দিনের পঞ্চম ওভারেই পঞ্চাশে পা রাখলেন তামিম ইকবাল। অফ স্পিনার রমেশ মেন্ডিসকে কাট করে চার মেরে ৩২তম টেস্ট ফিফটি করলেন ৭৩ বলে।

শ্রীলঙ্কা দিনের বোলিং শুরু করে মেন্ডিসকে দিয়ে। ওভারে আসে ৩ রান। পরের ওভারে পেসার বিশ্ব ফার্নান্দোর প্রথম দুই বলে দুটি বাউন্ডারি মারেন তামিম। প্রথমটি গালি ও স্লিপ ফিল্ডারের মাঝ দিয়ে। পরেরটি গালি দিয়ে।

উইকেট ব্যাটিং সহায়ক

প্রথম দুই দিনে জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামের উইকেট ছিল ব্যাটিং সহায়ক।  তৃতীয় দিনেও হয়তো বদলাচ্ছে না উইকেটের চরিত্র। ধারাভাষ্যকার ও বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার আতহার আলি খান পিচ রিপোর্টে বললেন, এখনও যথেষ্ট ব্যাটিং সহায়ক উইকেট।

লিড নেওয়ার লক্ষ‍্য নিয়ে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় দিন প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে চারশর আগে থামানোর পর তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাটে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে দারুণ। স্বাগতিকরা দিন শেষ করেছে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭৬ রান তুলে। 

তামিম দিন শেষ করেন ৫ চারে ৫২ বলে ৩৫ রান করে, জয় অপরাজিত ৪ চারে ৬৬ বলে ৩১ করে। 

এই দুজনের সৌজন্যে ১৩ ইনিংস পর টেস্টে অর্ধশত রানের উদ্বোধনী জুটি পেয়েছে বাংলাদেশ। এবার তাদের সামনে আরেকটি খরা কাটানোর হাতছানি। 

২০১৭ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই গলে ১১৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন তামিম ও সৌম্য সরকার। সেই থেকে এবারের টেস্টের আগ পর্যন্ত ৬১ ইনিংসে শুরুর জুটিতে আর শতরান পায়নি বাংলাদেশ। এবার কাটবে সেই খরা?

সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে। তবে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হবে নির্ধারিত সময়েই। 

দ্বিতীয় দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৯৭

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৯ ওভারে ৭৬/০ (জয় ৩১*, তামিম ৩৫*; বিশ্ব ৪-০-১৭-০, আসিথা ৪-১-১৯-০, রমেশ ৭-১-১৯-০, এম্বুলদেনিয়া ৪-০-১৯-০)