মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক
পরিষদে (এনইসি) সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এডিপি অনুমোদন ও অগ্রাধিকার প্রকল্পে বরাদ্দের
তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
আগামী এডিপির ব্যয়ের
মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে মোট বরাদ্দের ৬২ শতাংশ বা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬ কোটি
টাকা এবং বাকি ৩৮ শতাংশ বা ৯৩ হাজার কোটি টাকা বিদেশি অর্থায়ন থেকে যোগান দেওয়ার লক্ষ্য
ধরা হয়েছে।
নতুন অর্থবছরের অনুমোদিত
এ বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় ৯ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি এবং সংশোধিত এডিপির
চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছরে মূল
এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধন করে ২ লাখ ৭ হাজার ৫৫০
কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
রাজধানীর শেরে বাংলা
নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বৈঠক শেষ সংবাদ সম্মেলনে আসেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
এসময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, আইএমইডি সচিব আবু হেনা
মোরশেদ জামান ও ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মো. মামুন আল রশীদ উপস্থিত ছিলেন।
মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: বিদ্যুৎ বিভাগ
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন,
নতুন অর্থবছরের জন্য এডিপিতে একক প্রকল্প হিসেবে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ
প্রস্তাব করা হয়েছে দেশের বৃহত্তম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের
জন্য।
প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার
কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে প্রায় ১১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা
দিচ্ছে রাশিয়া।
ইউক্রেইনের সঙ্গে রাশিয়া
যুদ্ধে জড়ালেও এ প্রকল্পে অর্থায়নে সমস্যা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোভিড-১৯
মহামারীর সময় অন্যন্য প্রকল্পের যখন সমস্যা হচ্ছিল তখনও এ প্রকল্পে কোনও সমস্যা হয়নি।
ওই সময়েও এর বাস্তবায়ন গতি ভালো ছিল।
এখনও প্রকল্পটি ঠিকমত
ও দ্রুত এগোচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এ প্রকল্পে রাশিয়ার অর্থায়নে কোনও সমস্যা হচ্ছে
না। ভবিষ্যতেও কোনও সমস্যা হতে পারে বলে আমাদের মনে হয় না।”
নতুন এডিপিতে দ্বিতীয়
সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে চলমান ‘চতুর্থ প্রাথমিক
শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) কর্মসূচিতে। এতে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৭৫৯
কোটি টাকা বরাদ্দ।
এককভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ
৬ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আরেক মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ীতে ১২০০ মেগাওয়াট
বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে দেশের বড় প্রকল্পগুলোর মতো নির্মাণ কাজ চলছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি
এছাড়া নতুন এডিপির
আওতায় ফার্স্ট ট্র্যাকভূক্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (১ম পর্যায়)
প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ১২৯ কোটি টাকা।
বেশি বরাদ্দ পাওয়া অন্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে
>> কোভিড-১৯
মহামারী মোকাবিলায় কোভিড-১৯ ইমারজেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস;
বরাদ্দ ৪ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা।
>> বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ; বরাদ্দ প্রায় ৩ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।
>> ঢাকা-আশুলিয়া
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ: বরাদ্দ প্রায় ৩ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা।
>> এক্সপানশন
অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি এরিয়া; প্রায় ৩
হাজার ৫৯ কোটি টাকা
>> ঢাকা ম্যাস
র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেল্পমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬); ২ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা।