|
চতুর্থ দিন শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৯৭ বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৩৪ ওভারে ৩৮৫/৩ |
প্রথম সেশনে মন্থর ব্যাটিং
উইকেট পড়েনি একটিও। তবে রানও আসেনি প্রত্যাশা মতো। লিটন কুমার দাস ও মুশফিকুর রহিম নিরাপদে প্রথম সেশন কাটিয়ে দিলেও রান তুলতে পারেননি দ্রুত গতিতে।
চতুর্থ দিনের লাঞ্চ বিরতির সময় বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ৩৮৫। শ্রীলঙ্কার ৩৯৭ রান পেরিয়ে লিড নিতে স্বাগতিকদের চাই আর কেবল ১৩ রান।
বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়ে মুশফিক খেলছেন ৮৫ রানে। দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করা লিটনের রান ৮৮। দুইজনেই এগোচ্ছেন সেঞ্চুরিতে চোখ রেখে।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে খেলা হয়েছে ২৭ ওভার। এই সময় ওভার প্রতি মোটে আড়াই করে রান এসেছে। স্রেফ তিনটি চারে বাংলাদেশ রান তুলতে পেরেছে ৬৭।
সবগুলো বাউন্ডারিই এসেছে প্রথম ঘণ্টায়। যার দুটি লিটনের ব্যাট থেকে, একটি মারেন মুশফিক। বৃষ্টির বাধায় আধঘণ্টা দেরিতে খেলা শুরু হওয়া দিনে প্রথম ঘণ্টায় ১৪ ওভারে আসে ৩৮ রান।
দ্বিতীয় ঘণ্টায় কমে যায় রানের গতি। এই সময় ১৩ ওভারে মুশফিক-লিটন রান করেন ২৯।
শেষ রিভিউও হারাল শ্রীলঙ্কা
উইকেট আসছে না, তেমন কোনো সুযোগও তৈরি হচ্ছে না। ধীরে হলেও লিডের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উইকেটের জন্য তাই মরিয়া শ্রীলঙ্কা। তাই হয়তো তৃতীয় ও শেষ রিভিউটাও খরচ করে ফেলার ঝুঁকি নিলেন দিমুথ করুনারত্নে। কাজে লাগল না তা, ফের রিভিউয়ে ব্যর্থ হলেন লঙ্কান অধিনায়ক।
রমেশ মেন্ডিসের করা ১২৯তম ওভারের শেষ বলটি লিটন দাসের প্যাডে আঘাত হানলে জোরাল আবেদন করে লঙ্কানরা। কিন্তু সাড়া দেননি আম্পায়ার। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, বল বেরিয়ে যেত লেগ স্টাম্পের পাশ দিয়ে। বাংলাদেশের তিনটি রিভিউ এখনও অটুট কিন্তু শ্রীলঙ্কার নেই একটিও।
তখন ৮৪ রানে খেলছিলেন লিটন। মুশফিকের রান ৭৯। ১২৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৩৭৫।
৫ হাজারে প্রথম মুশফিক
দারুণ এক কীর্তি গড়লেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রানের মাইলফলকে পা রাখলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।
তৃতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামার সময় মাইলফলক থেকে ৬৮ রান দূরে ছিলেন মুশফিক। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি করে এগিয়ে যান তিনি। চতুর্থ দিন খেলতে নামেন ৫ হাজার থেকে ১৫ রান দূরে থেকে।
এদিন বেশ সাবধানী ছিলেন মুশফিক। প্রথম ঘণ্টায় করেন কেবল ১৪ রান। পানি-পানের বিরতির পর প্রথম ওভারেই কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যান তিনি। ৮১ ম্যাচ ও ১৪৯ ইনিংসে এলো তার ৫ হাজার রান।
মুশফিকের আগে বাংলাদেশের হয়ে এই কীর্তি গড়ার সুযোগ ছিল তামিম ইকবালের সামনে। ক্র্যাম্পের কারণে গতকাল চা-বিরতির পর ব্যাটিংয়ে নামেননি ১৩৩ রান করা এই ওপেনার। টেস্টে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের রান এখন ৪ হাজার ৯৮১।
মুশফিক ও লিটনের ব্যাটে লিডের পথে ছুটছে বাংলাদেশ। ১২৩ ওভারে দলের রান ৩৬১। সফরকারীদের চেয়ে তারা পিছিয়ে আর কেবল ৩৬ রানে।
৭০ রানে খেলছেন মুশফিক, আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে চলা লিটন কুমার দাসের রান ৭৯।
প্রথম ঘণ্টায় সাবধানী ব্যাটিং
ছন্দে থেকেই যেন মাঠে নামলেন লিটন কুমার দাস। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই চার মেরে দিন শুরু করলেন তিনি। পরে তার ব্যাট থেকে এসেছে আরও একটি বাউন্ডারি। অপরপ্রান্তে সাবধানে এগোচ্ছেন মুশফিকুর রহিম।
চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টা নিরাপদেই পার করে দিলেন আগের দিনের অপরাজিত এই দুই ব্যাটসম্যান। এই সময়ে ১৪ ওভার খেলা হয়েছে, ৩ চারে রান এসেছে ৩৮।
৫৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা লিটন খেলছেন ৭৭ রানে, মুশফিক ব্যাট করছেন ৬৭ রান নিয়ে। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রানের কীর্তি গড়া থেকে স্রেফ এক রান দূরে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।
১২১ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৩৪৭। শ্রীলঙ্কা থেকে ৪১ রান পিছিয়ে স্বাগতিকরা।
খেলা শুরু, জুটির সেঞ্চুরি
ইনিংসে আরেকটি শতরানের জুটি পেল বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাসের চতুর্থ উইকেটের এই জুটি সেঞ্চুরি স্পর্শ করল ২১৩ বলে।
৯৮ রানে অবিচ্ছিন্ন থেকে তৃতীয় দিন শেষ করেছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। বৃষ্টির বাগড়ার পর চতুর্থ দিন খেলা শুরু হলে প্রথম ওভারেই পৌঁছে যান তারা জুটির শতকে।
আধঘণ্টা দেরিতে খেলা শুরু হওয়ায় সেশনগুলোর সময়ও পিছিয়ে গেছে। প্রথম সেশন হবে সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। ৪০ মিনিটের লাঞ্চ বিরতির পর শুরু হবে দ্বিতীয় সেশন। চলবে ৩টা ১০ পর্যন্ত। ২০ মিনিটের চা-বিরতির পর খেলা চলবে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত।
বৃষ্টির বাধায় খেলা শুরু হতে দেরি
ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয় চট্টগ্রামে। তাতে খেলা শুরু হতে দেরি হওয়ার শঙ্কা জাগে। খানিকবাদেই হুট করে বদলে যায় প্রকৃতি। ৯.৪০ এর দিকে একটু একটু করে কাভার সরানো শুরু করেন মাঠ কর্মীরা।
মিনিট পাঁচেক পর ঝকঝকে রোদ উঠে যায়। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দারুণ। তাই দ্রুতই প্রস্তুত হয়ে যায় মাঠ।
আধ ঘণ্টা দেরিতে সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে চতুর্থ দিনের খেলা।
বড় লিডে চোখ
তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি আর তিন ফিফটিতে চট্টগ্রাম টেস্টের লাগাম অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে। বুধবার বড় লিড নিয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় মুমিনুল হকের দল। এরপর চেপে ধরতে চায় শ্রীলঙ্কাকে।
৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। সফরকারীদের প্রথম ইনিংসের রান পেরিয়ে যেতে স্বাগতিকদের চাই স্রেফ আর ৮০ রান।
১৩৪ বলে ২ চারে ৫৩ রানে খেলছেন মুশফিকুর রহিম। দারুণ ছন্দে থাকা লিটন দাস রান ১১৩ বলে ৮ চারে ৫৪। এই দুইজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৯৮ রানের।
পায়ে ক্র্যাম্পের জন্য চা-বিরতির পর আর মাঠে নামেননি তামিম। তবে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলন ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স জানান, ক্র্যাম্প ছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই বাঁহাতি এই ওপেনারের। প্রয়োজন হলে চতুর্থ দিন ব্যাটিংয়ে নামবেন তিনি।
আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় শ্রীলঙ্কা
ম্যাচ দাঁড়িয়ে রোমাঞ্চকর এক বাঁকে। এখান থেকে যে কোনো দিকেই ঘুরে যেতে পারে চট্টগ্রাম টেস্ট। আপাতত একটু এগিয়ে থাকলেও ভুল চালে পিছিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ধরণ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় শ্রীলঙ্কার কোচ ক্রিস সিলভারউড।
তিন দিনেও শেষ হয়নি দুই দলের প্রথম ইনিংস। তিন দিন মিলিয়ে পড়েছে কেবল ১৩ উইকেট। উইকেটে এখনও বোলারদের জন্য খুব বেশি কিছু নেই। তাই শেষ দুই দিনে ২৭ উইকেট পড়ার সম্ভাবনা খুব কম।
বাংলাদেশের সামনে সুযোগ আছে প্রথম ইনিংসে বড় লিড নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চেপে ধরার। এর জন্য রান তুলতে হবে দ্রুত। আপাতত ওভার প্রতি ৩ করে রান তুলছে বাংলাদেশ। এভাবে এগিয়ে গেলে শ্রীলঙ্কাকে আবার অলআউট করার জন্য যথষ্ট ওভার নাও পেতে পারে স্বাগতিকরা।
তাই একটু ঝুঁকি নিতে হতে পারে। বাংলাদেশ ঝুঁকি নিলে সেটা কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তুত শ্রীলঙ্কা। টেস্টের পরতে পরতে থাকে নানা লড়াই। চতুর্থ দিন এমনই এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে চট্টগ্রাম টেস্ট।
তৃতীয় দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৯৭
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১০৭ ওভারে ৩১৮/৩ (আগের দিন ৭৬/০) (জয় ৫৮, তামিম ১৩৩ রিটায়ার্ড হার্ট, শান্ত ১, মুমিনুল ২, মুশফিক ৫৩*, লিটন ৫৪*; বিশ্ব ৮-০-৪২-০, আসিথা ১৬-২-৫৫-১, রমেশ ৩১-৮-৮৩-০, এম্বুলদেনিয়া ২৭-৬-৩৯-০, ধনঞ্জয়া ১৩-২-৩৯-০, রাজিথা ১১-৪-১৭-২)