সেই সঙ্গে একই সময়ে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কত টাকা গবেষণা
খাতে বরাদ্দ করেছে, তাও জানাতে বলা হয়েছে।
একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর সোমবার বিচারপতি
মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাই কোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।
আগামী দুই মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের
(ইউজিসি) চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন- ২০১০ এর ৯(৪) ধারা
অনুযায়ী অনুন্নত অঞ্চলের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৩ শতাংশ আসন
সংরক্ষণ করে তাদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ না দেওয়া এবং ৯(৬) ধারা অনুযায়ী
গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসির নির্ধারিত অর্থ ব্যয় না করায় সংশ্লিষ্টদের
বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও আইনগত
কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের
সচিব, এই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ইউজিসির চেয়ারম্যানকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে
রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী
জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
আগামী ১৪ অগাস্ট এ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা
হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
নিজস্ব উৎস থেকে খোঁজ নিয়েছে উল্লেখ করে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন
অব বাংলাদেশ-ক্যাবের করা রিট আবেদনে বলা হয়, কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের
৯(৪), (৬) ধারার বাস্তবায়ন নেই। যে কারণে আইনের এ দুটি ধারার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয়
পদক্ষেপ চেয়ে গত ৩১ জানুয়ারি ইউজিসির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যের
কাছে চিঠি পাঠায় ক্যাব।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি ক্যাবকে জানায় যে, তারা
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে না
পেয়ে ক্যাব গত ২৫ এপ্রিল বিবাদীদের আইনি নোটিস পাঠায়।
নোটিসে বলা হয়, ইউজিসি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন- ২০১০ এর ১২ ও ৪৯ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়নি। সাত
দিনের মধ্যে এ দুই ধারায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার
অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি না করায় এই রিট আবেদন করা হয়।