শুক্রবার মধ্যপ্রদেশে এক কৃষক সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মোদী কৃষি আইন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে কৃষকদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেন এবং কারও কোনও উদ্বেগ থাকলে তা দূর করতে আলোচনায় প্রস্তুত বলে জানান।
ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের করা বিতর্কিত তিনটি কৃষি সংস্কার আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকরা গত তিন সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করে আসছে। দিল্লি অভিমুখী সড়কও তারা অবরোধ করেছে।
দিল্লি ও আশপাশের এলাকাগুলোতে গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড ঠাণ্ডাতেও আন্দোলনরত কৃষকরা তাদের দাবিতে অনঢ় থেকে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষক ও সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকও কোনও ফল বয়ে আনেনি।
মধ্যপ্রদেশের সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী কৃষকদের এ শঙ্কা দূর করার চেষ্টা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কৃষকদের আশঙ্কা, নতুন কৃষি সংস্কার আইন ভারতের নিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থা ভেঙে দেবে এবং সরকারও ধীরে ধীরে নির্ধারিত মূল্যে গম ও ধান কেনা বন্ধ করে দেবে; যার ফলে তাদেরকে ফসল বেচতে বেসরকারি ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষিতে নামতে হবে।
মধ্যপ্রদেশের সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী কৃষকদের এ শঙ্কা দূর করার চেষ্টা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মোদী বলেন, কৃষি আইন নিয়ে কৃষকদের মনে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
“ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু এ মূল্য আগে যেমন ছিল তেমনই থাকবে- সরকার কৃষকদের সেই আশ্বাস দিচ্ছে; এটি তুলে নেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে অহেতুক ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই,” বলেন তিনি।
বড় বড় দেশগুলোর কৃষকরা আধুনিক যেসব সুযোগ সুবিধা পায়, ভারতের কৃষকদের জন্যও তা সহজলভ্য হওয়া উচিত এবং এতে আর দেরী হতে দেওয়া যায় না বলে মোদী উল্লেখ করেন ।
তিনি বলেন, “এরপরও কারও কোনও উদ্বেগ থাকলে আমরা সে ভয় দূর করা এবং অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে প্রতিটি ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত আছি।”
কৃষি সংস্কার রাতারাতি করা হয়নি জানিয়ে মোদী বলেছেন, গত ২০-৩০ বছর ধরে কেন্দ্র-রাজ্য সবিস্তারে আলোচনা করেছে এই সংস্কার নিয়ে। কৃষি বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং বহু প্রগতিবাদী কৃষকরাও এ সংস্কারের পক্ষে কথা বলে এসেছেন।