ক্যাটাগরি

শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস

তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার এ শৈত্যপ্রবাহ আরও দুদিন
অব্যাহত থাকবে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রংপুর
বিভাগ এবং গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রামের
সীতাকুণ্ড, ফেনী, পাবনা, নওগাাঁর বদলগাছি,
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ভোলা ও বরিশালে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ বয়ে
যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

এছাড়া
রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ অঞ্চলের
অধিকাংশ জায়গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭-১০ ডিগি সেলসিয়াসের মধ্যে বিরাজ করছে।

“তাপমাত্রা সামান্য বাড়ছে।
তবে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে আরও দুয়েকদিন। তারপরে
পরিস্থিতির উন্নতি হবে আশা করি।”

রোববার দেশের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে
কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। শনিবার রাজারহাটে ছিল ৬.৬ ডিগ্রি
সেলসিয়াস।

ঢাকায় রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন
ছিল ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চলতি মৌসুমের এ শৈত্যপ্রবাহ শুক্রবার থেকে শুরু হয়। সেদিন দেশের
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

বড় এলাকা জুড়ে তাপমাত্রা নেমে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে চলে এলে
আবহাওয়াবিদরা তাকে বলেন মৃদু শৈপ্রবাহ;
থার্মোমিটারের
পারদ ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তাকে মাঝারি ও  সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি
সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এ সময়টায় মধ্যরাত থেকে সকাল
পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে
এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে কৃষকদের
জন্য।

আমন ধান: বর্তমান আবহাওয়ায় ব্লাস্ট রোগ দেখা দিতে পারে। এ রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতি
বিঘা জমিতে ট্রাইসাইক্লাজল/স্ট্রবিন গ্রুপের অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ৬৭ লিটার পানিতে
ভালভাবে মিশিয়ে শেষ বিকালে ৫-৭ দিন অন্তর দু’বার স্প্রে করতে হবে। ব্লাস্ট রোগ
দেখা দিলে জমিতে পানি ধরে রাখতে হবে।

বোরো ধান: বীজতলায় থ্রিপস
পোকার আক্রমণ দেখা দিলে আক্রান্ত জমিতে নাইট্রোজেন জাতীয় সার ব্যবহার করতে হবে।

আলু: বর্তমান আবহাওয়ায় লেট ব্লাইট রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় রোগ
প্রতিরোধের জন্য ৭ দিন পর পর ম্যানকোজেব গ্রুপের অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার
পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করে গাছ ভালভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। রোগাক্রান্ত
হয়ে গেলে আক্রান্ত জমিতে রোগ নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত সেচ দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।