|
পঞ্চম দিন বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩৬৫ শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৫০৬ বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৫০ ওভারে ১৫৮/৬ |
এবার গেলেন সাকিবও
লিটন দাস আউট হওয়ার পর খুব বেশিক্ষণ টিকলেন না সাকিব আল হাসানও। আউট হলেন তিনি ৭২ বলে ৫৮ রান করে।
সাকিবের জন্য সকাল থেকেই শর্ট বলের পরিকল্পনা নিয়ে বল করছিল শ্রীলঙ্কা। সাকিব কয়েকবার পুল খেলে সফলও হন। তবে এবার আসিথা ফার্নান্দোর বলে আর পারলেন না। শরীর তাক করা বাউন্সার পুল করার চেষ্টায় দেরি করে ফেলেন সাকিব। বল তার গ্লাভসে ছোবল দিয়ে সহজ ক্যাচ উঠে যায় কিপার নিরোশান ডিকভেলার কাছে।
চতুর্থ দিন শেষে সাকিব বলেছিলেন, শেষ দিনে অন্তত তিন ঘণ্টা ব্যাট করতে চান তিনি। যেতে পেরেছেন সেটির কাছাকাছি, ক্রিজে ছিলেন ২ ঘণ্টা ২১ মিনিট।
বাংলাদেশের রান ৭ উইকেটে ১৬৩। লিড মোটে ২২ রানের।
শ্রীলঙ্কার ব্যর্থ রিভিউ
আসিথা ফার্নান্দোর বলে ফ্লিক করতে গিয়ে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেন। অফ স্টাম্পে পিচ করা বল মুভ করে ভেতরে ঢুকে আঘাত করে প্যাডে। লঙ্কানরা আবেদন জোরাল আবেদন করেন টানা বেশ কিছুক্ষণ ধরে। কিন্তু আঙুল তোলেননি আম্পায়ার। শ্রীলঙ্কা নেয় রিভিউ।
রিভিউয়ে দেখা যায়, বল মুভ করে বেরিয়ে যেত লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে। মোসাদ্দেক তখনও রানের দেখা পাননি।
অসাধারণ ক্যাচে লিটনের বিদায়
লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ওভারেই কাঙ্ক্ষিত উইকেট পেয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। নিজের বলে আসিথা ফার্নান্দোর দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নিলেন লিটন দাস।
অফ স্টাম্পে পিচ করা লেংথ বল হালকা মুভ করে ঢোকে ভেতরে। লিটন সোজা ব্যাটে ড্রাইভ করার চেষ্টায় শেষ মুহূর্তে একটু যেন থমকে যান। তাতেই বল ভেসে যায় বাতাসে। বল করে আসিথা তখন ছিলেন ফলো থ্রুতে, শরীরের মোমেন্টাম ছিল বাঁদিকে। সেখান থেকেই ডান দিক ঝাঁপিয় অসাধারণ ক্ষীপ্রতায় বল জমান এক হাতে। হতভম্ব লিটন কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন বোলারের দিকে।
প্রথম ইনিংসে ১৪১ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন ফিরলেন ১৩৫ বলে ৫২ রান করে। সাকিবের সঙ্গে জুটি শেষ হলো ১০৩ রানে। বাংলাদেশের ম্যাচ বাঁচানোর সম্ভাবনায় লাগল বড় চোট।
নতুন ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন।
জুটির শতরান
লিটন দাসের ফিফটি ছোঁয়ার ওভারেই সাকিব আল হাসানের সিঙ্গেলে দুজনের জুটি পা রাখল শতরানে।
জুটিতে সাকিবের অবদান ৬৩ বলে ৫৪, লিটনের ৯৫ বলে ৪১।
দুজনের মাত্র পঞ্চম জুটি এটি। ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চট্টগ্রামে ৮২ রানের জুটি গড়েছিলেন দুজন। লিটনের সেটি ছিল ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট, ওই ইনিংসে পেয়েছিলেন প্রথম ফিফটির স্বাদ।
এরপর ওই সিরিজেই পরের টেস্টে দুজনের জুটি ভাঙে ৫ রানে। ২০১৮ সালে অ্যান্টিগায় জুটিতে রানই আসেনি। এরপর লম্বা বিরতি দিয়ে দুজনের আবার জুটি হয় গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রামে, সেবার ছিল ৫৫ রানের বন্ধন। এরপর এবার শতরানের জুটি।
লিটনের ফিফটি
৪৮ রান নিয়ে লাঞ্চের পর খেলা শুরু করেন লিটন দাস। প্রথম ওভারেই দুটি সিঙ্গেলে পেয়ে যান দুটি রান। লড়িয়ে ইনিংসে ১৩০ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি।
৩৩ টেস্টে তার ত্রয়োদশ ফিফটি এটি, পাশাপাশি সেঞ্চুরি ৩টি।
এই বছর ৬ টেস্টে পঞ্চমবার পঞ্চাশ ছুঁলেন তিনি। আগের চারটিতে ফিফটি ও সেঞ্চুরি সমান দুটি করে।
একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করলেন তিনি দ্বিতীয়বার। গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামে করেছিলেন ১১৪ ও ৫৯।
স্বস্তি নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে
চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, শেষ দিন লাঞ্চের আগে একটির বেশি উইকেট হারালে দলের জন্য তা হবে বাজে। লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে সাকিব নিজেই নিশ্চিত করলেন, বাজে কিছু যেন না হয়। মুশফিকুর রহিমকে দিনের শুরুতে হারালেও লিটন-সাকিব জুটির ব্যাটিং আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ।
লাঞ্চ বিরতির সময় বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ১৪৯ রান। এগিয়ে আছে তারা ৮ রানে।
লাঞ্চের আগে শেষ বলে বাউন্ডারিতে ফিফটি করা সাকিব খেলছেন ৬১ বলে ৫২ রান নিয়ে। সঙ্গী লিটন দাসের রান ১২৭ বলে ৪৮।
তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ৯৬। দুজন একসঙ্গে প্রথমবার শতরানের জুটি গড়ার অপেক্ষা।
বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষায় এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। আলো থাকা সাপেক্ষে দিনের বাকি আছে আরও ৬৫ ওভার।
দিনে শ্রীলঙ্কার একমাত্র সফল বোলার কাসুন রাজিথা। বোল্ড করেছেন তিনি মুশফিকুর রহিমকে। ম্যাচে তার উইকেট হলো ৭টি। লাঞ্চ বিরতিতে বিশ্রাম নিয়ে তরতাজা হয়ে আবার তিনি নামবেন উইকেট শিকার অভিযানে।
সাকিবের ফিফটি
লাঞ্চের আগে শেষ বলে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার ফুল টসে ফ্লিক করে চার মেরে সাকিব আল হাসান পূর্ণ করলেন ফিফটি।
অনেকটা ওয়ানডের গতিতে এলো তার এই পঞ্চাশ। মাইলফলক স্পর্শ করলেন ৬১ বলে, ৭ বাউন্ডারিতে। যদিও খুব বেশি ঝুঁকি তিনি নেননি, কেবল মানসিকতা ছিল ইতিবাবক, ফায়দা তুলেছেন আলগা ডেলিভারিগুলোর।
সাকিবের ২৭তম টেস্ট ফিফটি এটি। সেঞ্চুরি আছে সঙ্গে ৫টি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯ টেস্টে ফিফটি হলো ৪টি, সেঞ্চুরি আছে একটি।
বাংলাদেশের লিড
অবশেষে মিরপুর টেস্টে লিড নিতে পারল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১৪১ রানে এগিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কাক পেছনে ফেলতে লাগল রান। উইকেট বাকি আছে ৫টি।
দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিমকে হারালেও লিটন দাস ও সাকিব আল হাসানের জুটিতে কাঙ্ক্ষিত লিড পেল বাংলাদেশ। এই জুটির রান তখন ৮৯।
সাকিব খেলছেন তখন ৪৮ রানে, লিটন ৪৫।
লিটনের ২ হাজার
প্রাভিন জয়াবিক্রমের বল কাভারে ঠেলে সিঙ্গেল নিয়ে ২ হাজার টেস্ট রানের ঠিকানায় পৌঁছে গেলেন লিটন দাস।
বাংলাদেশের অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে ২ হাজার টেস্ট রান হলো লিটনের। ৪৭ ইনিংসে এই মাইলফলক ছুঁয়ে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম মুমিনুল হক। তামিম ইকবালের লেগেছিল ৫৩ ইনিংস, লিটনের লাগল ৫৬ ইনিংস।
২ হাজার ছোঁয়ার সময় লিটনের রান এই ইনিংসে ৪১। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১৪১। মোট ১৮২ রান নিয়ে লিটনের ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট এটি। আগের সেরা ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামে গত ডিসেম্বরে ১৭৩ (১১৪ ও ৫৯)।
জুটির পঞ্চাশ
সাকিবের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ষষ্ঠ জুটির ফিফটি এলো দ্রুতই। পুল শটে সাকিবের তিন রানে জুটির পঞ্চাশ এলো ৫৮ বলে। তাবে সাকিবের অবদান ১৩ বলে ২৩, লিটন ৪৬ বলে ২২।
বাংলাদেশের একশ
মুশফিকুর রহিমের বিদায়ের পর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন লিটন কুমার দাস। আরেক প্রান্তে সাকিব আর হাসানের শুরুটা হয়েছে সাবলিল। এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান করে।
৩০তম ওভারে সাকিব আল হাসানের সিঙ্গেলে দলের রান স্পর্শ করল ১০০।
লিটন তখন ব্যাট করছেন ৭৬ বলে ৩১ রানে, সাকিব ১২ বলে ২০।
ওভারে তিন বাউন্ডারি
সকালে টানা ৫ ওভার করার পর কাসুন রাজিথাকে আরও একটি ওভার বোলিংয়ে আনলেন লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে।
তার চাওয়া, ক্রিজে নতুন সাকিব আল হাসানের উইকেট। কিন্তু এই ওভারেই রাজিথার ওপর চড়াও হলেন সাকিব। স্টাস্পের বাইরের তিনটি বলে ব্যাট চালিয়ে তিনটিতেই আদায় করলেন বাউন্ডারি।
রাজিথার বলে বোল্ড মুশফিক
দিনের শুরুতে আভাসটা ভালো দিলেও তা পূর্ণতায় রূপ দিতে পারলেন না মুশফিকুর রহিম। কাসুন রাজিথার বলে উপড়ে গেল তার স্টাম্প।
ওই ডেলিভারির আগে সাইটস্ক্রিন একটু ঠিকঠাক করতে বলেন মুশফিক। কিন্তু নিজে খেলতে পারলেন না ঠিকঠাক। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা লেংথ ডেলিভারি ভেতরে ঢোকে একটু। একটু নিচু হয়ে স্কিড করে যায় বল। মুশফিক মিস করেন বলের লাইন, পেছনের পায়ে ডিফেন্স করতে গিয়ে একটু দেরিও করে ফেলেন তিনি। তাতেই ভূপাতিত স্টাম্প।
প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১৭৫ রান করা ব্যাটসম্যান এবার ফিরলেন ৩৯ বলে ২৩ রানে। বাংলাদেশের জন্য যা বড় ধাক্কা। দলের রান ৫ উইকেটে ৫৩।
নতুন ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান।
রিভিউয়ে রক্ষা লিটনের
কাসুন রাজিথার বলে লিটন দাসকে কট বিহাইন্ড আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার জোয়েল উইলসন। লিটন টিকে গেলেন রিভিউ নিয়ে। লেগ স্টাম্পে পিচ করা বল অ্যাঙ্গেলে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে ফ্লিক করার চেষ্টা করেন লিটন। কিন্তু টাইমিং করতে পারেননি ঠিকঠাক। বল যায় কিপারের গ্লাভসে। লঙ্কানদের জোরালো আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার।
লিটন রিভিউ নেন সঙ্গে সঙ্গেই। রিভিউয়ে দেখা যায়, ব্যাটে নয়, বল লেগেছে প্যাডে। লিটন তাই থেকে গেলেন ক্রিজে। তার রান তখন ৯।
আগের দিন উইলসনের তিনটি সিদ্ধান্ত বদলে গিয়েছিল রিভিউয়ে। শেস দিনের শুরুতেই আবার তার আরেকটি সিদ্ধান্ত টিকল না শেষ পর্যন্ত।
বাংলাদেশের পঞ্চাশ
আসিথা ফার্নান্দোর বলে মুশফিকুর রহিমের বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের রান পেরিয়ে গেল পঞ্চাশ। ১৮ ওভার শেষে রান ৪ উইকেটে ৫২।
দিনের শুরুটা খারাপ হয়নি বাংলাদেশের। দিনের দ্বিতীয় ওভারে বাউন্ডারি মারেন লিটন দাস, মুশফিক পরে বাউন্ডারি মারলেন দুটি। প্রথম ৫ ওভারে রাস এসেছে ১৮। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, উইকেট পড়েনি।
২২ রানে খেলছেন মুশফিক, ৯ রানে লিটন।
চান্দিমালের চাওয়া
শেষ দিনের খেলা শুরুর আগে এই টেস্টে শ্রীলঙ্কার সেঞ্চুরিয়ান দিনেশ চান্দিমাল বলেন, “উইকেট এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। আমরা সবাই জানি, মুশফিক ও লিটন খুব ভালো ফর্মে আছে। আমরা চাইব, যত দ্রুত সম্ভব ওদেরকে আউট করতে।”
সাকিবের তিন ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ
চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচ বাঁচানোর সম্ভাব্য ছবি এঁকেছেন সাকিব আল হাসান। তার মতে, মুশফিক ও লিটন জুটিকে ব্যাট করতে হবে লাঞ্চ পর্যন্ত। এরপর তিনি নিজে ক্রিজে গিয়ে সময় কাটাতে চান অন্তত তিন ঘণ্টা।
লাঞ্চের আগে উইকেট হারালেও একটির বেশি হারানো যাবে না, বরেছেন সাকিব। প্রথম সেশনে একাধিক উইকেট হারালেই দলের জন্য বাজে হবে বলে ধারণা তার।
ভরসা সেই মুশফিক-লিটন
প্রথম ইনিংসে ২৪ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর ২৭২ রানের রেকর্ড জুটিতে দলকে উদ্ধার করেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস। দ্বিতীয় ইনিংসেও আরও একবার বিধ্বস্ত টপ অর্ডার। ২৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলটা লড়াই করে পার করে দেন মুশফিক ও লিটন। শেষ দিনে ম্যাচ বাঁচানোর কঠিন লড়াইয়ে তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকবে দল।
৪ উইকেটে ৩৪ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করবে বাংলাদেশ। ইনিংস পরাজয় এড়াতেই প্রয়োজন আরও ১০৭ রান।
শ্রীলঙ্কার চাওয়া থাকবে এই জুটিতে দ্রুত ফাটল ধরানো। সিরিজজুড়ে অসাধারণ বোলিং করা দুই পেসার কাসুন রাজিথা ও আসিথা ফার্নান্দো শেষ দিনে চাইবেন আরেকবার দ্রুত ছোবল দিতে।