শুক্রবার দুপুরে র্যাব সদর দপ্তরের
গোয়েন্দা শাখার একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান, র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম
শাখার সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে
নজরুলসহ তিনজনকে গত ৩১ মে প্রাণদণ্ড দেন বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন
তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর দুজন হলেন
নওগাঁর জামায়াত নেতা রেজাউল করিম মন্টু ও মো. শহিদ মণ্ডল। ওই দুজনকে আগেই
গ্রেপ্তার করা হয়। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে হাজির ছিলেন।
পলাতক নজরুল ইসলাম ঢাকায় তেজগাঁওয়ে
থাকতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় নওগাঁয় সাতজনকে
হত্যার পাশাপাশি আরও অনেককে আটকে রেখে নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠণ ও অগ্নিসংযোগের মত
অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে নজরুল ইসলামসহ তিনজনকে এই দণ্ড দেওয়া হয়।
২০১৬
সালের ১৮ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার তদন্ত শুরু করে তদন্ত সংস্থা। পরের
বছর ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।
তিন অভিযোগ
অভিযোগ ১: ১৯৭১
সালের ৭ অক্টোবর বিকাল আনুমানিক ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সময়ে আসামিরা
নওগাঁর বদলগাছী থানার পাহাড়পুর ইউনিয়নের রানাহার গ্রামে হামলা চালিয়ে স্বাধীনতার
পক্ষের নিরীহ-নিরস্ত্র সাহেব আলী, আকাম উদ্দিন, আজিম উদ্দিন মণ্ডল, মোজাফফর
হোসেনকে হত্যাসহ ওই সময় ১০-১২টি বাড়ি লুট করে অগ্নিসংযোগ করে।
অভিযোগ ২: ১৯৭১ সালের ৮ অক্টোবর দুপুর
আনুমানিক দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে আসামিরা নওগাঁর বদলগাছী থানার পাহাড়পুর
ইউনিয়নের খোজাগাড়ী গ্রামে হামলা চালিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের নিরীহ-নিরস্ত্র মো.
নুরুল ইসলামকে হত্যা করে। এসময় তারা ১৫-২০টি বাড়ি লুণ্ঠনের পর অগ্নিসংযোগ করে।
অভিযোগ ৩: ১৯৭১ সালের ৮ অক্টোবর বিকাল
আনুমানিক ৫টা থেকে পরদিন ৯ অক্টোবর আনুমানিক বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময়ে নওগাঁর
বদলগাছী থানার পাহাড়পুর ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামে হামলা চালিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের
মো. কেনার উদ্দিন এবং মো. আক্কাস আলীকে অবৈধভাবে আটক করে নির্যাতন করে। পরে অপহরণ
করে জয়পুরহাটের কুঠিবাড়ি ব্রিজে নিয়ে হত্যা করে। ওই সময়ের মধ্যে আসামিরা ৪০ থেকে
৫০টি বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে।
আরও পড়ুন