মোস্তাফিজুর রহমান,
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 11 Dec 2020 10:39 AM BdST
Updated: 12 Dec 2020 12:28 PM BdST
অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে পূর্ণ অবয়ব পেয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের সেতুর মূল কাঠামো, যুক্ত হয়েছে পদ্মার দুই তীর। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার এই সেতুই রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলাকে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত করবে।
-
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ২ মিনিটে পদ্মা সেতুর টু-এফ নম্বর স্প্যানটি বসানো হয় মাওয়া প্রান্তের ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির ওপর। যে ৪১টি স্প্যান বসিয়ে পুরো সেতু তৈরি হচ্ছে, এটি ছিল তার সর্বশেষ। ফলে এই স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়েই সেতুর মূল কাঠামোর পুরোটা দৃশ্যমান হয়েছে।
-
২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির উপরে বসানো হয়েছিল প্রথম স্প্যান।
-
নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ৩ বছর দুই মাস দশ দিনে শেষ হয়েছে সেতুর ৪১টি স্প্যান বসানোর কাজ।
-
যে ৪১টি স্প্যান দিয়ে পুরো সেতু তৈরি হচ্ছে, তার মধ্যে জাজিরা প্রান্তে ২০টি বসানো হয়েছে, আর মাওয়া প্রান্তে বসানো হয়েছে ২০টি। একটি স্প্যান বসেছে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের মাঝখানে।
-
প্রমত্তা পদ্মার ওপর সেতু নির্মাণে বেগ পেতে হয়েছে প্রকৌশলীদের। এ সেতুর খুঁটির নিচে তিন মিটার ব্যাসার্ধের ১২২ মিটার স্টিলের পাইল বসাতে হয়েছে, যা ছিল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
-
পদ্মা সেতুর মাঝের ২২টি খুঁটির নিচে নরম মাটি পাওয়া গেলে নকশা সংশোধনের প্রয়োজন হয়। পরে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নকশা সংশোধন করে পাইল বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। তাতে বাড়তি সময় লেগে যায় প্রায় এক বছর।
-
করোনাভাইরাস মহামারী আর বন্যার মধ্যেও গতি কমেছে কাজের। সব বাধা পেরিয়ে অক্টোবরে বসানো হয় ৩২তম স্প্যান। এরপর বাকি স্প্যানগুলো বসানো হয়ে যায় অল্প সময়ের মধ্যেই।
-
পদ্মা সেতুতে ব্যবহার করা পেন্ডুলাম বিয়ারিংয়ের ভার বহন ক্ষমতা দশ হাজার টন। প্রকৌশলীরা বলছেন, রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকে থাকার মত করে নির্মাণ করা হয়েছে পদ্মা সেতু।
-
পদ্মা সেতুর ১৫০ মিটার দীর্ঘ একেকটি স্প্যানের ওজন প্রায় ৩২০০ টন। মাওয়ার কুমারভোগের কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানগুলো বিভিন্ন খুঁটির ওপর বসানো জন্য নিয়ে যায় চীনের ভাসমান ক্রেইন ‘তিয়ান ই’।
-
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে।
-
বৃহস্পতিবার ৪১তম স্প্যান স্থাপনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, দক্ষিণ জনপদের মানুষের স্বপ্নের পদ্মাসেতু ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
-
দ্বিতল এই সেতুতে স্প্যানের ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হলেই পিচ ঢালাই হবে। ২২ মিটার প্রশস্ত এই সেতুতে চারটি লেইনে যানবাহন চলতে পারবে।
-
পদ্মা সেতুর পেটের ভেতর দিয়ে এক লাইনে চলবে ট্রেন। ওই এক লাইনেই মিটারগেজ ও ব্রডগেজ- দুই ধরনের ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা হচ্ছে।
-
৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
