ক্যাটাগরি

অতিরিক্ত ১% প্রভিশন রাখতে হবে ‘বিশেষ সুযোগে’র ঋণে

আর
এই প্রভিশনের নাম হবে ‘স্পেশাল জেনারেল প্রভিশন কোভিড-১৯’।

স্বাভাবিকভাবে
বিভিন্ন ধরনের ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রভিশন রাখতে হয়।
এখন তার সঙ্গে আরও ১ শতাংশ অতিরিক্ত রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার
এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে তা সব ব্যাংককে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর
ঝুঁকি কমাতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ
ব্যাংকের নতুন নির্দেশনাকে ‘মন্দের ভালো’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক
ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, যিনি ঋণ খেলাপিদের সুযোগ দেওয়ার সমালোচনা করে
আসছেন।

তিনি
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি কমাতে সর্বশেষ যে সিদ্ধান্ত
নেওয়া হল, তা কিছুটা হলেও ইতিবাচক ফল দেবে।”

বর্তমান
নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদের খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২০, ৫০ ও ১০০ শতাংশ হারে প্রভিশন
সংরক্ষণ করতে হয়। এমনকি খেলাপি নয় এমন ঋণের বিপরীতেরও ঋণের প্রকারভেদে ০.২৫ থেকে ৫
শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণের (এসএমই) বিপরীতে সবচেয়ে কম দশমিক
২৫ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হয়। আর ক্রেডিট কার্ডে রাখতে হয় সর্বোচ্চ, ৫ শতাংশ।

সব
ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো বৃহস্পতিবারের সার্কুলারে বলা হয়েছে, যে সব
ঋণ আগে জারি করা সার্কুলারের মাধ্যমে কিস্তি পরিশোধ/সমন্বয়ের জন্য বর্ধিত সময়ের সুবিধাপ্রাপ্তির
কারণে অশ্রেণিকৃত অবস্থায় রয়েছে, সে সকল ঋণের বিপরীতে ১ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর
২০২০ পর্যন্ত আরোপিত সুদ/মুনাফা নগদ আদায় ব্যতিরেকে আয়খাতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ঋণের
সম্ভাব্য আদায় ঝুঁকি পর্যালোচনা করে নিচের তিনটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে-

>>
১০ কোটি টাকা ও তার চেয়ে বেশি স্থিতির ঋণের (ঋণগ্রহীতা ভিত্তিক) বিপরীতে আরোপিত সুদ/মুনাফা
আয়খাতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা (যৌক্তিকতা উল্লেখপূর্বক)
অডিট কমিটির সুপারিশসহ পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।

>>
৫ কোটি টাকা ও তার চেয়ে বেশি কিন্তু ১০ কোটি টাকার কম ঋণের স্থিতির (ঋণগ্রহীতা ভিত্তিক)
বিপরীতে আরোপিত সুদ/মুনাফা আয়খাতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে শাখা প্রধানের সুপারিশসহ ব্যাংকের
প্রধান নির্বাহী/ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।

>>
৫ কোটি টাকার কম স্থিতির ঋণের বিপরীতে আরোপিত সুদ/মুনাফা আয়খাতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে
শাখা প্রধানের সুপারিশসহ তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।

এই
তিনটি বিষয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কোন ঋণের বিপরীতে আরোপিত সুদ আয় খাতে স্থানান্তর করা
না হলে তা ইন্টারেস্ট সাসপেন্স হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে।

সার্কুলারে
প্রভিশন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে-

>>
ঋণের বিপরীতে স্পেসিফিক প্রভিশন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ঋণের শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং এর
বিধান অনুযায়ী আবশ্যিক প্রভিশন হিসাবায়নপূর্বক যথারীতি প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।

 >> ঋণের বিপরীতে জেনারেল প্রভিশন সংরক্ষণের
ক্ষেত্রে ঋণের শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং এর বিধান অনুযায়ী আবশ্যিক প্রভিশন হিসাবায়নপূর্বক
যথারীতি প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।

এছাড়াও ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ ভিত্তিক হিসাব চূড়ান্ত
করার ক্ষেত্রে সব অশ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত ১ শতাংশ জেনারেল প্রভিশন সংরক্ষণ
করতে হবে এবং ওই প্রভিশনকে ‘স্পেশাল জেনারেল প্রভিশন কোভিড-১৯’  নামে ব্যাংকের ব্যালেন্সশিটে অন্যান্য দায়ের আওতায়
আলাদাভাবে প্রদর্শন করতে হবে।