ক্যাটাগরি

লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত ৪১১ কোটি ডলার

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মঙ্গলবার
হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২০-২১
অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১০
কোটি ৯০ লাখ ডলার।

অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪০৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ৩৫৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর
সময়ে লেনদেন ভারসাম্যে কোনো উদ্বৃত্ত ছিল না; বরং ১৪৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার ঘাটতি ছিল।

নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য
আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হল, নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি
থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

ব্যালেন্স অব পেমেন্টে বড় উদ্বৃত্ত
হওয়ার পেছনে রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি, বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার ভূমিকা রয়েছে।

পাশাপাশি মহামারীর মধ্যে মূলধনী
যন্ত্রপাতি এবং শিল্পের কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি অনেক কমে যাওয়াও রেখেছে
ভূমিকা,
যা অর্থনীতির স্থবিরতার দিকটিও দেখিয়ে দেয়।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের
(পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরিস্থিতি বাংলাদেশের অনুকূলেই ছিল। কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯ এর
দ্বিতীয়-তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি সবাইকে আতঙ্কের
মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

“এই অবস্থা চলতে থাকলে লেনদেন
ভারসাম্যসহ অর্থনীতিতে যে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছিল, তা হোঁচট খেতে পারে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা
যায়,
গত ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষ হয়েছিল ৪৮৪ কোটি ৯০ লাখ (প্রায় ৫
বিলিয়ন) ডলারের বড় ঘাটতি নিয়ে।

তার আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই ঘাটতি
ছিল আরও বেশি, ৫১০ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২০১৭-১৮
অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৯৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

ব্যালেন্স অব পেমেন্টে বড় উদ্বৃত্ত
থাকা অর্থনীতির জন্য স্বস্তির হলেও সার্বিক বিবেচনায় আত্মতুষ্টিতে না ভুগে
বিচক্ষণতার সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উপর জোর দিয়েছেন আহসান মনসুর।

“আগামী দিনগুলোতে রেমিটেন্সে খুব
ভালো খবর আসবে বলে আমার কাছে মনে হয় না। রপ্তানির ক্ষেত্রেও একই শঙ্কা আছে।
অন্যদিকে আমদানি খরচ বেড়ে গেলে এই উদ্বৃত্ত থাকবে না।”

বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে

প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য
ঘাটতি নিয়ে গত অর্থবছর শেষ করেছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে তা কমে ৪৭১ কোটি ৫০ লাখ
(৪.৭১ বিলিয়ন) ডলারে নেমে এসেছে।

গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৬৮১
কোটি ১০ লাখ ডলার।

জুলাই-নভেম্বর সময়ে বিভিন্ন পণ্য
রপ্তানি করে বাংলাদেশ এক হাজার ৫৫২ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করেছে। আর আমদানিতে ব্যয়
করেছে দুই হাজার ২৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।

এ হিসাবেই এই পাঁচ মাসে পণ্য
বাণিজ্যে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এই পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে
দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর আমদানি ব্যয় কমেছে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতিও কমছে। গত বছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে সেবা খাতে ঘাটতি ছিল ১৩৪ কোটি ৩০
লাখ ডলার। আর এ বছরের একই সময়ে তা কমে ৯৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।

মূলত বীমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য
ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও (ওভারঅল
ব্যালেন্স) ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

২০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ঘাটতি নিয়ে
গত অর্থবছর শেষ হয়েছিল। আর চলতি অর্থবছরের
পাঁচ মাসে অর্থাৎ জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৪১০ কোটি ৯০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত রয়েছে। গত বছরের এই পাঁচ মাসে ১৪৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ঘাটতি ছিল।

সব মিলিয়ে আর্থিক হিসাবেও
(ফাইনানশিয়াল অ্যাকাউন্ট) উদ্বৃত্তে চলে এসেছে বাংলাদেশ।

অর্থবছরের তিন মাসে
(জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৭৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের ঘাটতি ছিল। জুলাই-নভেম্বর সময়ে তা ৯৪
কোটি ৯০ লাখ ডলার উদ্বৃত্তে চলে এসেছে। গত বছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ১৯৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

বিদেশি ঋণ-সহায়তা বেড়েছে, কমেছে এফডিআই

চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে
মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বাবদ বাংলাদেশে এসেছে ১৯৮ কোটি ডলার। গত বছরের এই পাঁচ মাসে
এসেছিল ১৫৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

শতকরা হিসাবে এই চার মাসে বিদেশি
ঋণ-সহায়তা বেড়েছে ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।

অন্যদিকে জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৯৫
কোটি ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পেয়েছে বাংলাদেশ। গত বছরের একই সময়ে পেয়েছিল ১৩৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ
হিসাবে এই পাঁচ মাসে এফডিআই কমেছে ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এই সময়ে নিট এফডিআই এসেছে ২৫ কোটি
৩০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৪৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ হিসাবে নিট এফডিআই কমেছে ৪৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।