কিংবদন্তির সেই ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়ের কার্দান ফ্যাশন দুনিয়ার রানওয়ে থেকে
চিরবিদায় নিলেন ৯৮ বছর বয়সে।
পরিবার জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্যারিসের নিউলি এলাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় এই ফ্যাশন আইকনের মৃত্যু হয়।
পিয়ের কার্দানকে বলা হয় ‘ফ্যাশন ফিউচারিস্ট’। পুরনো ফ্যাশন রীতিকে ভেঙে
তিনি নতুন করে গড়েছেন ভাবীকালের আদলে। তার ৭০ বছরের ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় কেটেছে
চির নতুনকে আবিষ্কার আর সেই নতুনের বিস্ময়কে পরিধেয়র নকশায় ধারণ করার আতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা
নিয়ে।
ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে পিয়ের কার্দান এভিনিউ গড়েছেন নিজের মত করে। প্যারিসের
পোশাক রুচি ছিল সব সময়ই দামি। ফরাসি ফ্যাশন প্রবক্তারা বিশ্বাস করতেন, পোশাক হবে সবার
জন্য আলাদাভাবে আলাদা মাপে, আলাদা নকশায় তৈরি; ফ্যাশন হবে এক্সক্লুসিভ, চোখ ধাঁধানো,
দামে হবে সেরা।
কার্দান সেই দর্শন ভাঙলেন। মাপ দিয়ে বানানোর ঝামেলা এড়িয়ে দোকান থেকে কিনে
নিশ্চিন্তে পরে ফেলা যায়, এমন পোশাক রীতির প্রবর্তন করলেন। উঁচু তলার ফ্যাশনকে নিয়ে
এলেন মধ্যবিত্তের নাগালে।
১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লি রাডজিউইলের সঙ্গে পিয়ের কার্দান। ছবি: চেস্টার হিগিনস জুনিয়র/নিউ ইয়র্ক টাইমস
বিবিসি লিখেছে, ১৯৫০ এর দশকে তরুণরা যে স্যুট পরত, তাতে তাদের দেখাত তাদের
বাবাদের মত। বক্সি জ্যাকেট আর সাদা শার্টের সেই ফ্যাশনকে কার্দান ছুঁড়ে ফেলে দিলেন।
কলার, ল্যাপেল, টেইল আর কাফের বাহুল্য ছেঁটে ফেলে নতুন প্রজন্মের জন্য পোশাক নকশায়
রীতিমত বিপ্লব ঘটালেন।
বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পিয়ের কার্দানের হাত ধরেই ফ্যাশন শিল্পের
সোনালী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।
পোশাক থেকে তোয়ালে- নানা পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ে নিজের নাম যুক্ত করে পিয়ের
কার্দান পৌঁছে গেছেন সমাজের কেউকেটা থেকে সাধারণ মানুষের ঘরেও।
পরিবার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করার পর কার্দানের অফিসিয়াল ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে
তার একটি উক্তি পোস্ট করা হয়।
যেখানে তিনি বলে গেছেন: “আমি সব সময় কাজ করেছি আমার নিজের মত করে, যা অন্য
সবার চেয়ে আলাদা। আমি সব সময় স্টাইলে আলাদা হওয়ার চেষ্টা করে গেছি, কারণ এটাই টিকে
থাকার একমাত্র উপায়।”
১৯৪৫ সালে ইতালিতে জন্ম নেওয়া পিয়ের কার্দান শৈশবেই চলে যান ফ্রান্সে।
প্যারিসে ফ্যাশন ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি কাজ করেছেন খ্রিস্টিয়ঁ দিওর মত কোম্পানির
সাথে।
চাকরি ছেড়ে ১৯৫০ সালে নিজের ফ্যাশন কোম্পানি খোলেন কার্দান। আইকনিক ‘বাবল
ড্রেস’ আর ‘স্পেস এইজ’ কালেকশনের জন্য ডিজাইনার হিসেবে দ্রুত তার নাম ছড়িয়ে পড়ে।
ওই দশকের শেষ দিকেই তার প্রথম ‘রেডি টু ওয়্যার’ কালেকশন বাজারে আসে, যা
ছিল তখনকার ফ্যাশন দুনিয়ায় একেবারেই নতুন ধারণা।
পপ তারকা আর ব্যালে শিল্পীদের গায়ে যেমন কার্দানের নকশার পোশাক দেখা যেতে
লাগল, সাধারণ ক্রেতাদেরও তা কেনার সুযোগ হল।
তার বাহুল্যবর্জিত স্মার্ট ডিজাইন দ্রুত জনপ্রিয়তা পেল তরুণদের মধ্যে।
বিখ্যাত ব্যান্ড দল বিটলস তো জানিয়েই দিল, “আগামী দিনের পথে এক পা এগিয়ে আছে কার্দান।”
অন্য কোম্পানিকে নিজের নকশার পোশাক ও পরিধেয় তৈরির লাইসেন্স দিয়ে উৎপাদন
ও সরবরাহের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন পিয়ের কার্দান।
আর সে কারণেই তার নাম লেখা সানগ্লাস থেকে পারফিউম আজ দেখা যায় দুনিয়ার
সর্বত্র।