ক্যাটাগরি

সার্কিট হাউজে বৈঠক করে কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা: শাহাদাত

শনিবার নগরীর ২৮ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ড বিএনপির মতবিনিময় সভায় নগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত এ অভিযোগ করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

ওই বৈঠকে চট্টগ্রাম নগর, জেলা এবং কক্সবাজারের সাংসদরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণে ওই বৈঠক হয়েছিল।

এ নিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত বলেন, “সার্কিট হাউজে বসে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা কেন্দ্র দখলের পায়তারা চালাচ্ছে। ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করে যেভাবে মন্ত্রী-এমপি হয়েছে, ঠিক সেই ভোট ডাকাতির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কীভাবে জয়লাভ করা যায় তার হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আওয়ামী মন্ত্রী-এমপিরা।

“কাজেই দেশপ্রেমিক চট্টগ্রামবাসীকে আগামী ২৭ তারিখ নির্বাচনে সমস্ত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তত থাকতে হবে।”


চট্টগ্রাম সিটির ভোটে দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে আ. লীগের বৈঠক
 

তফসিল ঘোষণার পর সার্কিট হাউজে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের ওই বৈঠক নির্বাচনী আচরণবিধির লংঘন বলেও অভিযোগ করেন শাহাদাত।

এই বিএনপি নেতা বলেন, “কোনো বহিরাগত যাতে ভোট সেন্টারে আমার মা-ভাই-বোনদের ভোট দিতে বাধা দিতে না পারে সেজন্য স্ব-স্ব সেন্টারে সবাইকে ভ্যানগার্ডের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

“সরকারের চরিত্র প্রকাশের জন্য এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে। সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসনে অতিষ্ঠ দেশের জনগণ। আওয়ামী লীগ এখন দেউলিয়া সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তাই তারা জনগণের মতের উর ভরসা না করে প্রশাসন ও দলীয় সন্ত্রাসী দিয়ে কেন্দ্র দখলকে নির্বাচনে জয়লাভের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।”

নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, “বর্তমান সরকারের অধীনে প্রতিটি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও জবর-দখলের উৎসব চলছে। সামনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন, সেখানে যদি কারচুপি করা হয় তাহলে চট্টগ্রাম থেকে সরকার পতনের বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

“ইতোমধ্যে নির্বাচন নিয়ে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা সার্কিট হাউজে বসে ষড়যন্ত্রের জাল তৈরিতে লিপ্ত হয়েছে। ভোট ডাকাতি করতে বিভিন্ন জেলা থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে আনার পরিকল্পনা চলছে। আমরা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আহ্বান জানাব, নির্বাচনে শান্ত চট্টগ্রামের পরিবেশকে অশান্ত করবেন না।”

২৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী এস এম জামাল উদ্দীন জসিমের সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সদস্য মনজুর আলম প্রমুখ।