চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড
ও মিরসরাই এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় ৩০ হাজার একর জমিতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প
নগর’ স্থাপনে কাজ করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।
মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু
শিল্প নগরে পানি সরবরাহের লক্ষ্যে হালদা তীরে আরেকটি শোধনাগার করতে চায় চট্টগ্রাম ওয়াসা,
এতে হালদার জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে দাবি করে একপক্ষ এর বিরোধিতা করছে।
বিদ্যমান দুটি পানি
শোধনাগারে হালদা নদী থেকে দিনে ১৮ কোটি লিটার পানি তোলা হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি হলে
দৈনিক আরও ১৪ কোটি লিটার পানি তোলা হবে।
বিরোধিতাকারীরা বলছে,
নতুন এই প্রকল্প হলে শুষ্ক মৌসুমে হালদায় পানির প্রাপ্যতা কমে লবণাক্ততা বেড়ে প্রাকৃতিক
এ্ই মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রে মা মাছের চলাচল ও ডিম ছাড়া বিঘ্নিত হতে পারে।
তবে এই শঙ্কার ‘কারণ
নেই’ বলে মনে করছেন মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “মিরসরাইতে
ইকোনমিক জোন করতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি লাগবে। এ সমস্ত ইউটিলিটি সাপোর্ট নিশ্চিত করতে
সবাইকে সাপোর্ট করতে হবে। অহেতুক ভুল বোঝাবুঝি ঠিক হবে না। এখানে আমরা যদি হালদা নদী
থেকে পানি নিই। হালদা নদীতে ৩৭০ কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত হয়, যদি ৩ দশমিক
৭ কিউসেক পানি উত্তোলন করা হয় কোনো সমস্যা হওয়ার কারণ নেই।
“হালদা নদী মাছের প্রজনন
ক্ষেত্র। মাছের প্রজনন হয় এপ্রিল-মে-জুন এই তিন মাস। সে সময় অতিরিক্ত পানি থাকে। আর
শুকনার সময় পানি কমে যায়। সে সময় মাছের প্রজনন হয় না। আমার মনে হয়, উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা
করা দরকার। না বুঝে যদি ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করে যদি উন্নয়ন ব্যাহত হয় তাহলে শেষ পর্যন্ত
আমাদের সবাইকে সাফার করতে হবে। ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির দায় সবাইকে বহন করতে
হবে।”
মিরসরাই ইকোনমিক জোনে
৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “মিরসরাই
শিল্পনগর হচ্ছে, টানেল হচ্ছে, আরও উন্নয়ন হচ্ছে চট্টগ্রামে। মেরিন ড্রাইভ হয়ে গেলে
মিরসরাই থেকে কক্সবাজারের যদি কানেকটিভিটি হয়ে যায় বিলিয়ন ডলার আসবে এই অঞ্চলের পর্যটন
থেকে। তার জন্য ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি না করে এখন থেকে আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা পারস্পরিক
যোগাযোগের মাধ্যমেই সেটা করতে পারব।
“মহেশখালী-মাতারবাড়ি
নিয়ে অনেক কথা ছিল। রামপাল নিয়ে কথা ছিল। পায়রা বন্দর নিয়ে কথা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন
হচ্ছে।”
মন্ত্রী তাজুল ইসলাম
চট্টগ্রাম নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “চট্টগ্রামের
নালা-নর্দমা, খাল-বিল ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখতে হবে, খালের পাড়গুলো, ওয়াকওয়ে পরিষ্কার
থাকবে। তাহলে মানুষ প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারবে।”
একই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, “কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল, এটা এক
সময় স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। চীন এই টানেল নির্মাণ করছে। চট্টগ্রাম
থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ হচ্ছে। টানেল আর রেললাইনের মাধ্যমে পূর্বমুখী
অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই চট্টগ্রাম হবে দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ার বড় যোগাযোগ কেন্দ্র।”
স্থানীয় সরকার বিভাগের
সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সচিব শাকিলা ফারজানার সঞ্চালনায়
আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম
বিভাগের পরিচালক মিজানুর রহমান।
হালদায় ওয়াসার আরেক প্রকল্প, পক্ষে-বিপক্ষে মত
হালদার মাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস মন্ত্রীর
চট্টগ্রামের উন্নয়নে সব সেবা সংস্থার সমন্বয়ে জোর স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর