সোমবার সকাল ১১টায় বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চের পাদদেশে তার মরদেহ নেওয়া হয়।
সেখানে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিল্প-সাহিত্য
ও সংস্কৃতি
অঙ্গনের
বিভিন্ন
সংগঠনসহ
কবি, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, আত্মীয়-স্বজন ও সাহিত্যপ্রেমীরা
তাকে
ফুল
দিয়ে
শ্রদ্ধা
জানান।
তথ্য মন্ত্রণালয়,
সংস্কৃতি
বিষয়ক
মন্ত্রণালয়, বাংলা
একাডেমি, সম্মিলিত
সাংস্কৃতিক
জোট,জাতীয় কবিতা পরিষদ, চ্যানেল আই পরিবার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদ,
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি, টেলিভিশন
নাট্যশিল্পী
ও নাট্যকার
সংসদসহ
বিভিন্ন
প্রকাশনা
সংস্থার
পক্ষ
থেকে
শ্রদ্ধা
জানানো
হয়।
তার মরদেহ চ্যানেল আই কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিকাল ৩টায় জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করার কথা।
রাবেয়া খাতুনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, “বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন রাবেয়া খাতুন। অর্ধ
শতাধিক
উপন্যাস
ও চার
শতাধিক
গল্প
লিখেছেন
তিনি। এমন একজন লেখিকার চলে যাওয়া বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি। তার চেয়ে বড় কথা,
তিনি
যেই
সময়ে
সাহিত্য
রচনা
শুরু
করেছিলেন, সে সময়ে
নারীদের
ক্ষেত্রে
সেটা
খুব
সহজ
ছিল
না। কিন্তু তিনি তার কাজে সফল হয়েছেন।
“বাংলা সাহিত্যে রাবেয়া খাতুনের মতো খুব বেশি লেখিকা পাওয়া যাবে না, তার প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। প্রার্থনা
করছি, তার আত্মা যেন শান্তি পায়।”
নাট্যজন ও মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, “৭০ এর জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে তাকে আমরা দেখেছি ভিন্ন চরিত্রে। তার লেখাগুলো অত্যন্ত আবেগমথিত এবং সেগুলি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সত্যিকার অর্থে প্রতিনিধিত্ব করে।
“তিনি সাহিত্যে যেভাবে তা তুলে এনেছেন, তা আমাদের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরবান্বিত করেছে। শহীদ যারা হয়েছে, তাদেরকে তিনি তার লেখনির মাধ্যমে যেভাবে তুলে এনেছেন, তা আমাদের ভাবনা ও আলোচনার বিষয়।”
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮৫ বছর বয়সে রোববার বিকালে ঢাকার বনানীতে নিজের বাড়িতে মৃত্যু হয় রাবেয়া খাতুনের।
অর্ধ শতাধিক উপন্যাসের রচয়িতা রাবেয়া খাতুন শিক্ষকতা করতেন,
সাংবাদিকতাও
করেছেন। তিনি বাংলা একাডেমির পর্ষদ সদস্য ছিলেন।
সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৯৩ সালে একুশে পদক এবং ২০১৭ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন।
তিনি চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের মা।