ক্যাটাগরি

নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেন দীপন হত্যামামলার আসামিরা  

সোমবার
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে আত্মপক্ষ
শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন তারা।

তোরা
হলেন- মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুস সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু
ওরফে সাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে
সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার এবং শেখ আবদুল্লাহ ওরফে
জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের।

বরখাস্ত
হওয়া মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে
আবদুল্লাহ পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানির সুযোগ পাননি।

কারাগারে
থাকা ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাক্ষ্য পড়ে শোনান।
এরপর তাদের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। আসামি খায়রুল ইসলামের
আইনজীবী নজরুল ইসলাম তার মোয়াক্কেল সাফাই সাক্ষ্য দেবেন। তখন আদালত আগামী ১১ জানুয়ারি
সাফাই সাক্ষ্যের তারিখ ধার্য করে।

লেখক-প্রকাশক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের উপর ধারাবাহিক হামলার
মধ্যে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে নিজের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান
জাগৃতির কার্যালয়ে আক্রান্ত হন দীপন। তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

একই দিন রাজধানীর লালমাটিয়ার সি ব্লকে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান
শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে হানা দেয় দুর্বৃত্ত দল। তারা প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল,
ব্লগার তারেক রহিম ও লেখক রণদীপম বসুকে কুপিয়ে আহত করে।

তার আগে ওই বছরই বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলা চলার সময় টিএসসিতে
কুপিয়ে হত্যা করা হয় লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায়কে। জাগৃতি ও শুদ্ধস্বর দুই প্রকাশনা থেকেই
বিজ্ঞান লেখক অভিজিতের বই প্রকাশিত হয়।

দীপন হত্যার ঘটনায় মামলার পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর
গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমান ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর
আট আসামির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। 

সেখানে বলা হয়, দীপন হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন
আনসার আল ইসলাম, তাদের নেতা সৈয়দ জিয়াউল হকের পরিকল্পনা এবং নির্দেশেই দীপনকে হত্যা
করা হয়।

পরের বছরের ১৩ অক্টোবর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য
দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।