আদালতের পিপি রাশিদা সাইদা খানম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক অভিযোগপত্রের উপর শুনানি শেষে তা গ্রহণ করেন এবং আগামী রোববার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেন।
গ্রেপ্তার সব আসামির উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে বলেন তিনি।
এর আগে অভিযোগপত্রে আসামিদের কোনো অভিযোগ অথবা নারাজি থাকলে তা আদালতকে জানানোর জন্য দুই দফা সময় দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো পক্ষই আপত্তি না করায় আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর কথা আদালত জানায় বলেন তিনি।
গত বছরের তিন ডিসেম্বর মামলার প্রধান অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী সাইফুরসহ আট জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
অভিযোগপত্রে গ্রেপ্তার আট আসামির মধ্যে ছয়জনকে ধর্ষণে সরাসরি জড়িত এবং বাকি দুইজনকে তাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত অভিযোগ তারা হলেন, প্রধান আসামি ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি,তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া।
সহযোগিতার যাদের বিরুদ্ধে তারা হলেন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম।
এর আগে ডিএনএ টেস্টেও গ্রেপ্তার আসামিদের ডিএনএ নমুনার সাথে ঘটনাস্থলের ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া যায়।
গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজে স্বামীর সাথে বেড়াতে আসা ওই গৃহবধূকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করেন কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী।
এ ঘটনায় পরদিন সকালে গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।