এই ঘটনায় পুলিশের ‘সহযোগিতার’ অভিযোগও করেন ওই বৃদ্ধা।
মঙ্গলবার ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তাগাছা উপজেলার কুতুবপুরের খোদেজা খাতুন (৭০) এই অভিযোগ করেন।
তবে মুক্তাগাছার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে খোদেজা খাতুন বলেন, তিনি কুতুবপুর মৌজায় ১৭ শতাংশ জমি ওয়ারিশ সূত্রে পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছিলেন।
“একই এলাকার মানিক মিয়া ‘গোপনে চক্রান্ত’ করে আমার ছেলে আবু বকর ছিদ্দিককে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সেই ১৭ শতাংশ জমি থেকে ৬১২ অযুতাংশ ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর একটি ‘ভুয়া’ দানপত্র দলিল করিয়ে নেন।”
খোদেজা খাতুন বলেন, মানিক এলাকার কিছু ‘দুস্কৃতকারী’ ‘দালাল’ প্রকৃতির লোক নিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে সেই জমি তার [মানিক] নামে লিখে নিতে এবং দখল বুঝিয়ে দিতে বিভিন্ন সময় হুমকি দিতে থাকেন।
“আমি সবদিক বিবেচনা করে আদালতের স্মরণাপন্ন হই। আদালত সেই জমিতে অন্য কারো প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে।”
এরপর মানিক স্থানীয় কথিত কিছু নেতা ও দালাল চক্রকে দিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি শুরু করেন বলে খোদেজার অভিযোগ।
তিনি বলেন, মুক্তাগাছা থানার এসআই হুমায়ুন কবীর একাধিকবার তার বাড়ি গিয়ে জমি দলিল করে দিতে চাপ দিয়েছেন। ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর এসআই হুমায়ুন গভীর রাতে তাদের বাড়ি গিয়ে ‘অকথ্য ভাষায় গালাগাল’ দিয়ে মানিককে জমি লিখে দিতে হুমকি দেন।
“এ নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করলে হুমায়ুন নীরব হয়ে যান।”
সম্প্রতি মানিক গংরা আবার সেই জমি দখল ও জোড় করে দলিল করে নিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে খোদেজা জানান।
খোদেজা বলেন, “এরপর মুক্তাগাছা থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস নিজে আমার বাড়ি গিয়ে সেই জমি দলিল করে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন।
গত ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার দিকে মুক্তাগাছা থানার পুলিশ আমার বাড়ি গিয়ে আমাকে, আমার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, ছেলে আবু বকর ছিদ্দিক, ছেলের বউ রাজিয়া সুলতানাকে থানায় নিয়ে যায়। সারা রাত থানায় লক আপে আটকে রেখে জমি লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ করে।
“আমি রাজি না হওয়ায় পরদিন বিকালে ‘মিথ্যা’ মামলায় আসামি করে আমাদের কোর্টে চালান করে দেয়। এই সুযোগে মানিক পুলিশ ও কতিপয় কথিত নেতার সহায়তায় ৬১২ অযুতাংশ জমিতে জোরপূর্বক ঘর উঠিয়ে দখল করে নেন; তখন আমরা থানায় আটক।”
এই ব্যাপারে স্থানীয় সুরুজ আলীর ছেলে মানিক মিয়া বলেন, “সাড়ে ৬ শতাংশ জমি আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছ থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় ক্রয় করেছি। আবু বক্কর সিদ্দিক আমার প্রতিবেশী চাচাত ভাই হয়। আমি প্রতিবন্ধী; জমির দলিল সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। আবু বক্কর সিদ্দিকই জমিটি দানপত্র দলিল করে দিয়েছে। কিন্তু জমি দখল নিতে গেলে বাধা আসে। পরে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছি। এ নিয়ে এলাকায় দরবারও হয়েছে। তাতে কোনো লাভ হয়নি। এখন জমিতে বাউন্ডারি দিয়ে দখলে নিয়েছি।”
মুক্তাগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, “তাদের বাবা নুরুল হক মারা যাওয়ার পর ছেলে মেয়েরা সম্পত্তির মালিক হিসেবে গণ্য হয়। সেই হিসেবে আবু বক্কর সিদ্দিকের জমির একটা অংশ বিক্রি করা হয়েছে। এটা নিয়ম অনুযায়ী দলিল হয়েছে। এতে কোনো প্রতারণার সুযোগ নেই।”
মুক্তাগাছা থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, এক বছর আগে খোদেজা খাতুনের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক জমিটি মানিক মিয়ার কাছে বিক্রি করলেও তা দখলে নিতে পারেননি। তার নামে খাজনা খারিজও আছে। এ ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হলে পুলিশ মামলা নেয়। আইন অনুযায়ী আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়।
“পুলিশ কাউকে নির্যাতন করেনি। এলাকাবাসী মানিকের জমি দখল নিয়ে দিয়েছে। এতে পুলিশের কিছু করার ছিল না।”
খোদেজা খাতুনের আইনজীবী এমদাদুল হাসান সবুজ বলেন, ২০২০ সালের ৩০ অগাস্ট আদালতে নিষেধাজ্ঞার মামলা করা হয়। আদালত মানিক মিয়াকে দুইবার তলব করলেও তিনি আসেননি।
“আদেশ অমান্য করে থানা পুলিশ ব্যবহার করে জমিটি বেদখল নিয়েছে। মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করছে যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আবু বক্কর সিদ্দিকের তো কোনো জমি নেই; তাহলে সে কিভাবে বিক্রি করবে?”