ক্যাটাগরি

ওয়াশিংটন ডিসিতে জরুরি অবস্থার অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

২০ জানুয়ারিতে বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তা হুমকি বাড়তে থাকা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তার মুখে ট্রাম্প গতকাল সোমবারেই ওয়াশিংটন ডিসিতে আগামী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি রাখার অনুমোদন দেন।

জরুরি অবস্থায় সাড়া দিতে ওই সময় পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়। অর্থাৎ, ট্রাম্পের ওই অনুমোদনের ফলে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবে।

গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে সহিংসতার পরই ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত নগরীতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। পরে বাইডেনের অভিষেককে সামনে রেখে আরও কিছু সহায়তা চেয়ে জরুরি অবস্থা জারি রাখার জন্য রোববার ট্রাম্পকে চিঠি দেন মেয়র।

এর পরদিন হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে জরুরি অবস্থা জারি রাখায় ট্রাম্পের অনুমোদন দেওয়ার কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ১১ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯তম প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে যে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবেলায় কেন্দ্র থেকে জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছেন।”

ট্রাম্প এরপর মঙ্গলবার টেক্সাসে এক সফরে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোনও সহিংসতা চাই না” । গত ৮ ডিসেম্বরের পর সাংবাদিকদের সামনে এটিই তার প্রথম মন্তব্য।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী ফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিফল হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের অন্দরে নিভৃতেই সময় কাটিয়ে আসছেন। এর মধ্যে গত ৬ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতি দিতে কংগ্রেসে বিতর্ক চলার সময় ট্রাম্প সমর্থকরা সেখানে সহিংস হামলা চালায়।

ওই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন। ট্রাম্পের উসকানিতে ওই হামলা হয়েছে  অভিযোগ তুলে তাকে মেয়াদ শেষের আগেই ক্ষমতা থেকে সরাতে উঠেপড়ে লেগেছেন ডেমোক্র্যাটরা।

কংগ্রেসে ট্রাম্পকে সরাতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এরই মধ্যে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্প মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটদের আনা অভিশংসন প্রস্তাবকে উদ্ভট আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এতে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে পদত্যাগ করবেন কিনা সে প্রশ্নে তিনি কিছু বলেননি।

ওদিকে, ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকরা থেমে নেই। তারা অনলাইনে নানা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেরা আবার একজোট হয়ে বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানের দিন রাজধানীতে জড়ো হওয়ার পরিকল্পনা সাজিয়ে যাচ্ছে।

এরই মধ্যে তারা ক্যাপিটল ভবনে হামলার থেকেও ‘বড় ঘটনা ঘটানোর’ হুমকি দিয়ে রেখেছে। গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই থেকে নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানের দিন দেশজুড়ে সশস্ত্র বিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ২০ জানুয়ারি এবং তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের রাজধানী ও ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হওয়ার পরিকল্পনা করছে।

এমন পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প রাজধানীতে যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলা কিংবা নাশকতা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সম্পদ, সরঞ্জাম দেওয়াসহ অন্যান্য সহায়তা করতে কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে অনুমতি দিলেন।