কোর্দোবায় বুধবার
রাতে প্রথম সেমি-ফাইনালে ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে
সমতা টানেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। অতিরিক্ত সময়ও ১-১ সমতায় শেষের পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে
জিতে শিরোপা লড়াইয়ে পা রাখে রোনাল্ড কুমানের দল।
জন বাউতিস্তা ও ওইয়ারসাবালের
শট ঠেকিয়ে দেন টের স্টেগেন। আর সোসিয়েদাদের উইলিয়ান জোসে মারেন পোস্টে। দলটির সফল শট
নেন মিকেল মেরিনো ও আদনান ইয়ানুজাই।
আর বার্সেলোনার হয়ে
প্রথম শট পোস্টে মারেন ডি ইয়ং। পরের দুটি শটে সফল উসমান দেম্বেলে ও মিরালেম পিয়ানিচ।
উড়িয়ে মারেন অঁতোয়ান গ্রিজমান। শেষে রিকি পুস জালে বল পাঠালে উচ্ছ্বাসে ভাসে বার্সেলোনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই
বার্সেলোনার আক্রমণভাগে লিওনেল মেসির শূন্যতা ফুটে ওঠে। বল দখলে আধিপত্য করলেও আক্রমণে
সুবিধা করতে পারছিল না তারা। চাপ ধরে রেখে বরং প্রথম ২০ মিনিটে ভালো কয়েকটি সুযোগ তৈরি
করে সোসিয়েদাদ।
গত মৌসুমের কোপা
দেল রের ফাইনালিস্ট সোসিয়েদাদ এগিয়ে যেতে পারতো তৃতীয় মিনিটেই। তবে ছয় গজ বাইরে থেকে
অরক্ষিত আলেকসান্দার ইসাকের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। আট মিনিট পর ডি-বক্সে ফাঁকায়
বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন পোর্তু। খানিক পর ইসাকের আরেকটি প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে
দেন গোলরক্ষক টের স্টেগেন।
ধীরে ধীরে গুছিয়ে
উঠে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে বার্সেলোনা। ডান দিক দিয়ে দুবার ভীতি ছড়ান দেম্বেলে,
কিন্তু গোলরক্ষককে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারছিল না তারা।
এর মাঝে ৩৯তম মিনিটে
প্রথম নিশ্চিত সুযোগ পেয়েই এগিয়ে যায় লিগে টানা আট ম্যাচ অপরাজিত দলটি। এক জনকে কাটিয়ে
ডি-বক্সে পাস দেন মার্টিন ব্রাথওয়েট আর বাঁ দিক থেকে ছয় গজ বক্সের মুখে ক্রস বাড়ান
গ্রিজমান। দারুণ ভঙ্গিমায় লাফিয়ে হেডে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ডি ইয়ং।
দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ
মিনিটে ওইয়ারসাবালের সফল স্পট কিকে সমতায় ফেরে সোসিয়েদাদ। ডি-বক্সে ডি ইয়ংয়ের কনুইয়ে
বল লাগলে পেনাল্টিটি পায় দলটি।
৬২তম মিনিটে আবারও
এগিয়ে যেতে পারতো বার্সেলোনা। তবে দেম্বেলের শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৭৮তম মিনিটে
ডি-বক্সে থেকে ক্লেমোঁ লংলের হেডও হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট।
অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ
মিনিটে টের স্টেগেনের নৈপুণ্যে বেঁচে যায় বার্সেলোনা। ইয়োসেবা জালদুয়ার ডি-বক্সের বাইরে
থেকে নেওয়া বুলেট গতির শট ঝাঁপিয়ে কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান জার্মান গোলরক্ষক।
ছয় মিনিট পর ডি-বক্সে এক ঝটকায় একজনকে কাটিয়ে জায়গা বানিয়ে দুর্বল শট নেন দেম্বেলে।
১১২তম মিনিটে আক্রমণ-প্রতি
আক্রমণে দুদলই সুযোগ তৈরি করেছিল; কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। গোলরক্ষক বরাবর গ্রিজমান
শট নেওয়ার পর পাল্টা আক্রমণে কাছ থেকে ব্যর্থ হন ওইয়ারসাবাল।
ছয় মিনিট পর আদনান
ইয়ানুজাইয়ের ফ্রি-কিকে বল টের স্টেগের হাত ছুঁয়ে পোস্টে লাগলে আবারও বেঁচে যায় বার্সেলোনা।
ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
সেখানে জিতে মৌসুমের
প্রথম শিরোপা জয়ের মঞ্চে পা রাখে বার্সেলোনা।
দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে
বুহস্পতিবার মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও আথলেতিক বিলবাও।