তবে আদালত বলেছে, বিচারাধীন বিষয়ে এবং পলাতক আসামির উদ্বৃতি, বক্তব্য সাক্ষাৎকার প্রচারে একাত্তর টিভি আরও সতর্ক থাকবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
আদালত অবমাননা প্রশ্নে রুল জারি করতে দুদকের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে রোববার এ আদেশ দিয়েছে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ।
আদালতে একাত্তর টিভির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আশরাফ আলী। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আর পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান ও পি কে হালদারের সহকর্মী, আত্মীয় উজ্জ্বল কুমার নন্দীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশারফ হোসেন।
আদালত আদেশে বলেছে, একাত্তর টিভি কর্তৃপক্ষের যে বক্তব্য আইনজীবী উপস্থাপন করেছেন, সেখানে তারা বলেছেন, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বা আদালতের ক্ষমতাকে খাটো করতে পি কে হালদারের বক্তব্য প্রচার করা হয়নি। সরল বিশ্বাসে তা প্রচার করা হয়েছে। এর জন্য তারা প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে খবর, টকশোতে বিচারাধীন বিষয়ে বা পলাতক আসামির বক্তব্য প্রচারে সতর্ক থাকবে। তাছাড়া একাত্তর টিভির বিরুদ্ধে এর আগে আদালত অবমাননার কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। ফলে আদালত অবমানার বিষয়ে রুল জারি করতে দুদকের আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হল।
এর আগে একাত্তর টিভি কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা প্রশ্নে রুল জারি করতে দুদকের আবেদন করলে গত ১০ জানুয়ারি হাই কোর্ট পি কে হালদারের বক্তব্য, সাক্ষাৎকার প্রচারে একাত্তর টিভি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল।
গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে একাত্তর টিভিতে প্রচারিত খবর ও এক আলোচনা অনুষ্ঠানে পলাতক পি কে হালদারের বক্তব্য প্রচারের পর তাকে সরাসরি সংযুক্ত করে একাত্তর টিভি।
আদালতের কাছে পলাতক কোনো ব্যক্তির বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার প্রচার প্রচলিত আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন উল্লেখ করে বিষয়টি আদালতের নজরে আনে দুদক।
গত ৩০ ডিসেম্বর দুদকের আবেদনে আদালত পি কে হালদারসহ যে কোনো দণ্ডিত ও পলাতক আসামির বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার প্রচার-সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
পরবর্তী আদেশ অথবা পি কে হালদার সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব ধরনের প্রচার মাধ্যমের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর বলে উল্লেখ করে আদালত।
এ আদেশের পাশাপাশি একাত্তর টিভির খবর ও আলোচনা অনুষ্ঠানে পি কে হালদারের প্রচারিত বক্তব্য ও সাক্ষাতকারের ভিডিও ক্লিপও তলব করে হাই কোর্ট।
নির্দেশমত গত রোববার হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার গোলাম রব্বানীর দপ্তরে সে ভিডিও ক্লিপ জমা দেয় একাত্তর টিভি কর্তৃপক্ষ।
শুনানিতে আদালতের নির্দেশে হাই কোর্টের বিশেষ কর্তকর্তা মো. সাইফুর রহমান ভিডিও ক্লিপ দুটি চালিয়ে দেখান।
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেন।
বিদেশ পালানোর পর দুদক তার ৩০০ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদের’ খবর দিয়ে মামলা করে। বিদেশে থাকা পিকে হালদার গত ২৮ জুন আইএলএফএসএলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে তার দেশে ফেরার জন্য ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন।
আদালত তাতে অনুমতি দিলেও পিকে হালদার না ফেরায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ঢাকার জজ আদালত ইতোমধ্যে পি কে হালদারের সব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করারও আদেশ দেয়।