ক্যাটাগরি

দুদকের আপিলে ইশরাককে ফের যেতে হচ্ছে আদালতে  

এ মামলায় ইশরাককে খালাস দিয়ে বিচারিক আদালতের রায়ের
বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের আপিল গ্রহণ করে সোমবার এ আদেশ দেয় বিচারপতি মো. সেলিমের
হাই কোর্ট বেঞ্চ।

দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, “যে
আদালত তাকে খালাস দিয়েছিলেন, সে আদালতেই তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। আত্মসমর্পণের
পর ইশরাক জামিন চাইলে সে আবেদনটি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।”

তবে কতদিনের মধ্যে ইশরাককে আত্মসমর্পণ করতে হবে, সে
বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি দুদকের আইনজীবী। 

উচ্চ আদালত মামলার নথি তলব করেছে বলে জানান তিনি।

সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দুদকের
করা মামলায় বিএনপি নেতা ইশরাককে গত বছরের ২৩ নভেম্বর খালাস দিয়েছিল ঢাকার ৪ নম্বর
বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম।

খালাসের রায়ে বলা হয়, সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করার
নোটিস যথানিয়মে জারি না হওয়ায় এবং রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায়
ইশরাককে খালাস দেওয়া হল।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক গত
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন।

২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইশরাক এবং তার ওপর নির্ভরশীল
ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী দখিল করার জন্য নোটিস দিয়েছিল দুদক।

ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর দুদকের কনস্টেবল তালেব কমিশনের
নোটিসটি নিয়ে ইশরাকের বাসায় যান। কিন্তু ইশরাক তখন বাসায় না থাকায় উপস্থিত চারজনের
(সাক্ষী) সামনে বাসার নিচতলায় প্রবেশ পথের পাশে দেয়ালে টেপ দিয়ে সেই নোটিস ঝুলিয়ে
দিয়ে আসেন বলে উল্লেখ করা হয় মামলার এজাহারে।

ইশরাক তার সম্পদের হিসাব নির্ধারিত ফরমে দাখিল না করায়
২০১০ সালের ২৯ অগাস্ট রমনা থানায় মামলা করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল
আলম।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর
হোসেন ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে ইশরাক
হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এরপর গত বছরের ১৫ জানুয়ারি ইশরাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ
গঠন করে এ মামলার বিচার শুরু করে আদালত। মামলায় ৮ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়
ছয়জন সাক্ষ্য দেন।

গত ১১ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন
শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে। পরে গত বছর ২৩ নভেম্বর রায় ঘোষণা করে আদালত।

রায়ের পর আসামি পক্ষের আইনজীবী নূরুজ্জামান তপন সাংবাদিকদের
বলেছিলেন, দুদক মামলা করার সময় ইশরাক হোসেনের ঠিকানা হিসেবে রমনার মেয়র হাউজ এবং
গোপীবাগের বাসার ঠিকানা দিয়েছিল, কিন্তু নোটিস সেসব ঠিকানায় ‘পাঠানো হয়নি’। ইশরাকও
তখন দেশের বাইরে ছিলেন।

২৩ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের ৪ নম্বর
সাক্ষী দুনীতি দমন কমিশনের পুলিশ সদস্য আবু তালেব বা অপর সাক্ষী গণপূর্তের
প্রকৌশলী কবির হোসেন, গণপূর্তের কর্ম সহকারী সামশুদ্দিন- কেউই মামলা প্রমাণে
বিশ্বাসযোগ্য কোনো সাক্ষ্য দিতে পারেননি।