ক্যাটাগরি

ডিএজি রূপা বললেন, এএজি-ডিএজির কথায় জামিন হয় না

ঘুষ নিয়ে আসামির জামিন করানো ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের
অভিযোগে রাষ্ট্রের এই আইন কর্মকর্তাকে বুধবার দুই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক
কর্মকর্তা।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএজি
রূপা জামিন নিয়ে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, “জামিন দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আদালতের।
জামিন দেওয়ার বিষয়ে মাননীয় বিচারকগণ স্বাধীন। আদালতের বিচারকগণ মামলার গুণাগুণ বিচার
করে জামিন দিয়ে থাকেন। এখানে এএজি বা ডিএজির কথায় জামিন দেওয়ার নজির সুপ্রিম কোর্টের
ইতিহাসে নেই।”

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সম্পর্কে রূপা বলেন, “তা
মিথ্যা, বানোয়াট ও প্রোপাগান্ডা, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই বিষয়টি আমি লিখিতভাবে দুদককে
জানিয়েছি।”

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রূপা
 

দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কমিশনের
প্রধান কার্যালয়ে সংস্থার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম জিজ্ঞাসাবাদ করেন রূপাকে। এই
অভিযোগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে তিনিই কাজ করছেন।

রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে দুদক সচিব মুহা. আনোয়ার
হোসেন এর আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ গ্রহণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের
অভিযোগে অনুসন্ধান কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপাকে তলব করেছিল। তিনি বিষয়টি নিয়ে
উচ্চ আদালতে যান। আমাদের জানা মতে, আদালত তাকে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে দুদকে জবাব দেওয়ার
নির্দেশ দেন।”

২৭ জানুয়ারির মধ্যে রূপাকে তলব করে দ্বিতীয়বারের মতো
গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে নোটিস পাঠিয়েছিলেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৪ নভেম্বর রূপাকে তলব
করেছিল দুদক। কিন্তু সেই এই জিজ্ঞাসাবাদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন
করেন তিনি। গত ৩ ডিসেম্বর ওই আবেদন খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।

ডিএজি রূপাকে দুদকে যেতেই হবে
 

ওই সময় রূপা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত থাকায় দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের
মুখোমুখি হতে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তাকে সময় দেয় আদালত।

রূপাকে তলবের নোটিসে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রের এই আইন
কর্মকর্তা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে ‘ঘুষ গ্রহণ
করে’ জি কে শামীমসহ বিভিন্ন আসামির সঙ্গে ‘আঁতাত করে’ জামিন করিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে
নেওয়াসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন’ বলে অভিযোগ রয়েছে দুদকের কাছে।