ক্যাটাগরি

কোভিড-১৯: আড়াই মাসে শনাক্ত রোগী দ্বিগুণ, ছাড়িয়ে গেল ১০ কোটির ঘর

যুক্তরাষ্ট্রের
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের টালিতে হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে
বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল সোয়া ৭টা পর্যন্ত বিশ্বে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১০
কোটি ২ লাখ ১৬ হাজার ৪০৩ জন। এর অর্ধেক রোগীই শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য, ভারত,
ব্রাজিল, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যে।

ওই
সময় পর্যন্ত পুরো পৃথিবীতে ২১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে।
আর আক্রান্তদের মধ্যে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৯৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

এমন
এক সময়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ কোটির ঘর ছাড়াল যখন ভাইরাসের প্রকোপ কমিয়ে আনতে
বিশ্বজুড়ে চলছে বড় আকারে টিকাদানের প্রস্তুতি। 

নিউ
ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, লকডাউন, সামাজিক দূরত্বের নিয়ম, আর নানারকম বিধিনিষেধ দিয়েও কাজ
হয়নি, গত কায়েক মাসে সংক্রমণের গতি কেবলই বেড়েছে। প্রতিদিন এখন বিশ্বজুড়ে গড়ে
শনাক্ত হচ্ছে পাঁচ লাখের বেশি রোগী।   

চীনের
উহানে প্রথম এ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আট মাসের মাথায় গত অগাস্টে বিশ্বজুড়ে শনাক্ত
রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছিল আড়াই লাখে। সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে নভেম্বরের ৯ তারিখে
পৌঁছায় পাঁচ কোটিতে। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ফের দ্বিগুণ হয়ে দশ কোটিতে পৌঁছাতে সময়
লেগেছে মাত্র আড়াই মাস।

২০১৯
সালের ডিসেম্বরের শেষে ছড়াতে শুরু করা নতুন ধরনের এ করোনাভাইরাস বিশ্বের প্রতিটি
প্রান্তে পৌঁছে যেতে খুব বেশি সময় নেয়নি।

কিন্তু
অনেক দেশেই এখনও করোনাভাইরাস পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে
আক্রান্ত ও মৃত্যুর অনেক তথ্যই হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে স্বাস্থ্য
বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

কোভিড-১৯: বিশ্বে শনাক্ত রোগী ছাড়াল ৯ কোটি

কোভিড-১৯: ভয়াল অক্টোবর আক্রান্তের সংখ্যা নিল ৫ কোটিতে

করোনাভাইরাস: ২০ লাখ হাসিমুখ এখন শুধুই স্মৃতি

 

আক্রান্তের
সংখ্যায় সবার উপরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ২ কোটি ৫৪ লাখের বেশি মানুষের
মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা বিশ্বের মোট শনাক্ত রোগীর এক চতুর্থাংশ। মৃত্যুর
সংখ্যাতেও যুক্তরাষ্ট্র সবার চেয়ে এগিয়ে, এ পর্যন্ত ৪ লাখ ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু
হয়েছে সেখানে।

সংক্রমণের
সংখ্যায় ভারত এখন বিশ্বে দ্বিতীয়, সেখানে এক কোটি ছয় লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে,
মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার মানুষের।

মৃতের সংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল, সেখানে ২ লাখ ১৮
হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এ ভাইরাস। সরকারি হিসাবে আক্রান্ত হয়েছে ৮ কোটি ৯৩
লাখের বেশি মানুষ।  

গত
কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সামান্য কমে এলেও যুক্তরাজ্য,
দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল থেকে ছড়াতে শুরু করা করোনাভাইরাসের অতি সংক্রমাক নতুন কয়েকটি
ধরন এখন মাথাব্যথার বড় কারণ।

২০২১
সাল বিশ্বে এসেছে করোনাভাইরাসের টিকার আশা নিয়ে। ইতোমধ্যে কিছু দেশ নাগরিকদের টিকা
দেওয়ার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। তবে মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে টিকা দিতে লাগবে
বহুদিন। কিছু ধনী দেশ তা দ্রুততার সঙ্গে পারলেও গরিব অনেক দেশের টিকা পাওয়াই এখনও
নিশ্চিত হয়নি।

বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থার হেলথ ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামের প্রধান মাইকেল রায়ান বলেছেন,
সবচেয়ে ঝুঁকিতে যারা আছেন, তাদের টিকাদান নিশ্চিত করার মত যথেষ্ট টিকাও এখনও বিশ্বের
হাতে নেই।