সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একটি গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফল উপস্থাপন নিয়ে
এক সেমিনারে একথা বলেন তিনি।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “আমরা চাইব যে আরো অধিকতর গবেষণা হোক। সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদে সামান্য কিছু বরাদ্দ দেওয়া হয়।
“তবে আমরা যদি আমাদের প্রয়োজন, বিশেষ করে আমাদের দৈনন্দিন বিষয় নিয়ে যদি গবেষণার জন্য প্রস্তাব আসে, ওই গবেষণায় অর্থায়নের জন্য সরকার ‘রেডি’।
পরিকল্পনা সচিব জয়নুল বারির সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফৌজিয়া জাফরীন।
মন্ত্রী বলেন, “এক অনুষ্ঠানে কচুরিপানা নিয়ে একবার বলেছিলাম গবেষণার প্রয়োজন আছে। এরকম একটা গবেষণা নিয়ে আসুন। সেখানে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, চার-পাঁচজন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন।
“আমি সেদিন বলেছিলাম, কচুরিপানা নিয়েও কেন গবেষণা করা যাবে না? আমাদের সংস্কৃতিতে গবেষণায় সাহস কম। সাহস প্রদর্শন করতে হবে।”
এক্ষেত্রে বিষয় নির্বাচনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাহস নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান
জানিয়ে তিনি বলেন, “তরুণ যারা, পড়ছে যারা, পড়াচ্ছেন যারা, তারাই গবেষণা করবে। ‘দে মাস্ট শো কারেজ’।
সেমিনারে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষনা পরিষদের ৩ লাখ টাকা অনুদানে ‘কোয়ালিটি অব গভর্নমেন্ট সেকেন্ডারি স্কুল এডুকেশন: গ্যাপ বিটুইন ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই’ শীর্ষক একটি গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মামুন-উর-রশিদ।
তিনি জানান,
এই গবেষণায় জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি বরিশাল, ঝালকাঠি ও ভোলার তিনটি বয়েজ ও তিনটি গার্লস স্কুল স্কুলের ৬০১ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
এর মধ্যে ৩১৯ জন শিক্ষার্থী আর ২৮২ জন অভিভাবক। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বয়স বিবেচনায় অপরিপক্ক ধরে তাদের অভিভাবকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
গত বছরের ওই দুই মাস মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে।
মামুন-উর-রশিদ বলেন, ফলাফলে দেখা গেছে মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার মান নিয়ে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট।
স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে যতটুকু প্রত্যাশা থাকে,
তার সঙ্গে বাস্তবতার বিস্তর ফারাক। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিশাল ঘাটতি নিয়েই তাদের ক্লাস করতে হয়।
এই চাহিদার মধ্যে ক্লাস রুমে বসার সুবিধা, পরিবেশ, খেলার মাঠ, শিক্ষকদের পড়ানোর দক্ষতা, লাইব্রেরি ও ল্যাব সুবিধার মানসহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মোট ২২টি প্রশ্ন করা হয়।
তিনি বলেন, এসব স্কুলের ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী কোচিং সেন্টার ও গৃহশিক্ষকের কাছে পড়েন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী এরমধ্যেও ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী কোচিং বা গৃহ শিক্ষকের মান নিয়ে সন্তুষ্ট নয়।
গড় প্রত্যাশার স্কোর নির্ধারণ ধরা করা হয় ৪.৪ পয়েন্ট। সেখানে শিক্ষার্থীরা গড় সেবা পাচ্ছে ৩.১০ পয়েন্ট। সে ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ১.৩ পয়েন্ট।