মঙ্গলবার দুপুরে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম গিয়ে দেখার করার পর বিএসইসির
নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম এ তথ্য জানান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন,
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর হিসেকে রবির কাছে প্রত্যাশা অনেক। লভ্যাংশ
না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা খুশি হতে পারেনি।
“আমরা তার কাছে ব্যাপক অসন্তোষ
জানিয়েছি এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।”
লভ্যাংশ না দেওয়ার বিকল্প কি
প্রতিকার হতে পারে সেবিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র এবিষয়ে রবির কাছে জানতে
বলেন।
বিকেলে আর্থিক প্রতিবেদ নিয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে রবির সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “তারা
এ
বিষয়ে খুশি নয়। তারা
আশা
করেছিল,
ডিভিডেন্ট দেওয়া হবে। রেগুলেটর চাইবে শেয়ারহোল্ডোরদের ডিভিডেন্ট দিয়ে যেন হ্যাপি করা যায়। ওনাদের সেন্টিমেন্টের সাথে ইমোশনের সাথে
পুরোপুরি একাত্মতা প্রকাশ করছি।
“আমরা
ওনাদের কনসার্নগুলো বোর্ড মেম্বারদের সাথে
শেয়ার করব এবং কি কি অ্যাকশন নেওয়া যায় সে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”
এদিকে লভ্যাংশ না দেওয়ায় মঙ্গলবার
রবির শেয়ারের ব্যাপক দাম কমেছে।
দিনের প্রথম লেনদেনে রবির শেয়ার ৩৯
টাকায় লেনদেন হতে দেখা গেছে।আগের দিন রবির সমাপনী দাম ছিল ৪৬ টাকা।
সেই হিসেবে দাম কমেছিল ৭ টাকা বা ১৫
দশমিক ২২ শতাংশ যা তালিকাবুক্তির পরে সবচয়ে বেশি।
দিন শেষে রবির শেয়ার লেনদেন হচ্ছিল ৪১
টাকা ৮০ পয়সায়। যা আগের দিনের তুলনায় ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ কম।
মঙ্গলবার ঢাকার পুঁজিবাজারে রবির
মোট ২ কোটি ৪ লাখ ৮১ হাজার ২৮২টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। টাকার অংকে যা মূল্য ৮৫ কোটি
টাকা।
মঙ্গলবার রবির শেয়ার ৩৯ টাকা থেকে
৪২ টাকা ৯০ পয়সায়র মধ্যে লেনদেন হয়।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি বিনিয়োগকারীদের ২০২০ সালে কোন
লভ্যাংশ দিবে না বলে জানিয়েছে।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর
শেষ হওয়া ২০২০ অর্থবছরের জন্য এই লভ্যাংশ প্রস্তাব করেছে।
আগামী ২১ মার্চ সাধারণ সভায় এবারের লভ্যাংশের
অনুমোদন নিতে হবে। সেজন্য রেকর্ড ডেট ঠিক হয়েছে ৮ মার্চ।
সেখানে অনুমোদন পেলে ১০ টাকা অভিহিত
মূল্যের প্রতিটি শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা কোন লভ্যাংশ পাবে না।
গত এক বছরে শেয়ার প্রতি মুনাফা
বেড়েছে রবির আগের বছর ৪ পয়সা হলেও এ বছর হয়েছে ৩৩ পয়সা।
মাত্র ১০ টাকায় পুঁজিবাজারে
তালিকাভুক্ত হলেও রবির শেয়ার টানা ১৫ দিনে ৬০১ শতাংশ বেড়ে ৭০ টাকা ১০ পয়সা হয়ে
গিয়েছিল।
কিন্তু পরে কমে যায়।
২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ
কোম্পানির শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ‘এন’ ক্যাটাগরিতে।
২০২০ অর্থ বছরে রবি শেয়ার প্রতি মুনাফা
করেছে ৩৩ পয়সা। এসময় তাদের শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য হয়েছে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা।তাদের
শেয়ার প্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছে ৫ টাকা ৩৬ পয়সা।
আগের বছর এই সময় তাদের শেয়ারে প্রতি
মুনাফা মূল্য ছিল ৪ পয়সা। শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য হয়েছে ১২ টাকা ৬৪ পয়সা।তাদের
শেয়ার প্রতি নগদ প্রবাহ ছিল ৬ টাকা ১০ পয়সা।
রবি আইপিও থেকে মোট ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ
৩৩ হাজার ৩৪০ টাকা তহবিল সংগ্রহ করতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫২ কোটি ৩৭ লাখ ৯৩ হাজার
৩৩৪টি শেয়ার ছাড়ে।
এর মধ্যে রবি কর্মীদের কাছে ১৩ কোটি
৬০ লাখ ৫০ হাজার ৯৩৪টি শেয়ার বিক্রি করে ১৩৬ কোটি ৫ লাখ ৯ হাজার ৩৪০ টাকা তুলেছে।
বাকি ৩৮৭ কোটি ৭৪ লাখ ২৪ হাজার টাকার
মধ্যে ১৫৫ কোটি ৯৬ লাখ ৯ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ ছিল যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য। বাকিটা
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য।
২০১৯ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন
অনুয়ায়ী রবির সম্পদ মূল্য ১৭ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা।
গতবছর তারা মুনাফা করেছে ১৬ কোটি ৯০
লাখ টাকা। এ সময়ে তাদের শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ১২ টাকা ৬৪ পয়সা আর শেয়ার প্রতি মুনাফা
৪ পয়সা।
২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী
রবির মোট সম্পদ ১৭ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। রিটার্ন অন অ্যাসেট দশমিক ১০ শতাংশ। এর অর্থ
১০০ টাকার সম্পদ ব্যবহার করে ১০ পয়সা মুনাফা হয়েছে।
পুঁজিবাজারে রবির ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩
হাজার ৩৩৫টি শেয়ার আছে। এর মধ্যে ৯০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ আছে পরিচালকদের হাতে।
এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের
হাতে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ শেয়ার আছে।
রবির বাজার মূলধন ২১ হাজার ৯৯৯ কোটি
৩২ লাখ টাকা। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫ হাজার ২৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা; রিজার্ভের পরিমাণ
১ হাজার ২৩৬ কোটি ২ লাখ টাকা।
আরও খবর-
১৫ দিনে রবির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬০১%