৭৫ লাখ রুপি ছিল জেমিসনের ভিত্তি মূল্য। ত্রিমুখি টানাটানির পর ৬ ফুট ৮
ইঞ্চি লম্বা পেসারকে ১৫ কোটি রুপিতে দলে নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোর। প্রথমবার
আইপিএল খেলতে যাচ্ছেন তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ দামি ক্রিকেটার
হিসেবে।
এখনও পর্যন্ত মোটে ৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন জেমিসন। এক বছরের
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আলো ছড়িয়েছেন মূলত টেস্টে। সেই তিনিই ঝড় তুললেন বিশ্বের শীর্ষ
ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের নিলামে। নিউ জিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমে ২৬ বছর বয়সী
পেসার বললেন, সবকিছুই তার জন্য বিচিত্র অভিজ্ঞতা।
“ সত্যি বলতে অবিশ্বাস্য অনুভূতি। ভেবেছিলাম রাতে ঘুমিয়ে যাব। কিন্তু মাঝরাতের
দিকে উঠে বসি এবং ফোনে চোখ রাখি। জীবনে আর কখনও এরকম হবে কিনা কে জানে! তাই মনে এলো,
পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার চেয়ে আলিঙ্গন করি ও উপভোগ করি। ওই ঘণ্টা দেড়েক সময়, নিশ্চিতভাবেই
ছিল অদ্ভুত। ”
“ আমার নিলাম যখন চলছে, শেন বন্ড (নিউ জিল্যান্ডে বোলিং গ্রেট ও মুম্বাই
ইন্ডিয়ান্সের বোলিং কোচ) আমাকে ম্যাসেজ পাঠায়, ‘হাউ গুড ইজ দিস?’ আমার আসলে জানা ছিল
না, ১৫ কোটি রুপি নিউ জিল্যান্ড ডলারে কত। এখনও চেষ্টা করছি ব্যাপারটি হজম করার।”
জাতীয় দলে চুক্তি থেকে বছরে তার পারিশ্রমিক দেড় লাখ নিউ জিল্যান্ড ডলারের
মতো। আর একবারের আইপিএল থেকে তিনি পাবেন নিউ জিল্যান্ড ডলারে ২৮ লাখ ৬০ হাজারের কাছাকাছি!
অবিশ্বাস্য এই অঙ্ক দেখে উচ্ছ্বসিত জেমিসন ফোন করেন আপনজনদের।
“ প্রথমে আমার সঙ্গিনী এমাকে ফোন করি। ও ঘুমাচ্ছিল। ঘুম ভাঙিয়ে খবর দেই।
তার পর বাবা-মাকে ফোন করি, তারা জেগেই ছিলেন।”
বিশাল অঙ্কের পারিশ্রমিকের সঙ্গে আসে পাহাড় সমান চাপও। আইপিএলে এরকম অঙ্ক
পেয়ে চাপে ভেঙে পড়ার নজির আছে অনেক। তবে জেমিসন বেশ আত্মবিশ্বাসী।
“ সত্যি বলতে, খুব বেশি বদল হচ্ছে না আমার ভেতর। জানি, প্রত্যাশা অনেক থাকবে।
তবে সেটা তো সবসময়ই থাকে। প্রথম ওয়ানডে, প্রথম টেস্ট, বিভিন্ন সিরিজে, সবসময়ই প্রত্যাশার
চাপ থাকে। আমার নিজের ভেতরের চেয়ে হয়তো বাইরের চাপ বেশি থাকবে। আমার জন্য ব্যাপারটি হলো কীভাবে আমি শিখতে পারি, নিজেকে গড়তে
পারি, দলের প্রয়োজনের সময় কাজটুকু কতটা করতে পারি।”