ক্যাটাগরি

কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে গ্যাবনে বিক্ষোভে নিহত ২

শুক্রবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেওয়া বিধিনিষেধে ক্ষুব্ধ দেশটির নাগরিকরা এরই মধ্যে অনেক এলাকাতেই সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছে।

বৃহস্পতিবার গ্যাবনের রাজধানী লিব্রেভিল ও পোর্ট জেন্টিতে থালাবাসন বাজানো, ব্যারিকেড দেওয়া, টায়ার ও আবর্জনা পোড়ানো বিক্ষোভকারীদের সরাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে কাঁদুনে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ছুড়তে হয়েছে।

“সুরক্ষা ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় গতকাল সন্ধ্যায় আমাদের ২ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে,” শুক্রবারের বিবৃতিতে এমনটাই বলেছেন গ্যাবনের প্রধানমন্ত্রী রোজ ক্রিস্টিন ওসৌকা রাপোন্ডা।

আফ্রিকার এ দেশটিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহ থেকে রাজধানীতে ঢোকা ও বের হওয়ায় বিধিনিষেধ দিয়েছে, কারফিউর সময়সীমা বাড়িয়েছে।

“সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিধিনিষেধ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বেশ কড়া এবং অবিবেচনাপ্রসূত,” শুক্রবার এমনটাই বলেছেন আইনের শিক্ষার্থী সারাহ লেওউবি।

তিনি জানান, গ্যাবনের বেশিরভাগ শ্রমিক ও শিক্ষার্থীর গাড়ি নেই, যে কারণে তাদের পক্ষে কারফিউ শুরুর আগে বাড়ি ফেরা বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।

“কাজ শেষ হয় ৪টার দিকে, ট্রাফিক জ্যাম ও অন্যান্য ঝক্কিতে বেশিরভাগেরই বাড়ি ফিরতে ৮টা বেজে যায়। সরকারের উচিত এ ব্যাপারটা বিবেচনায় নেওয়া,” বলেছেন লেওউবি।

গ্যাবনে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ১৩ হাজার ১০৭ জনের দেহে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে; তাদের মধ্যে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে মধ্য আফ্রিকার এ দেশটিতে এখন প্রতিদিন গড়ে নতুন ১৩৩ জনের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হচ্ছে।

এই সংখ্যা ৫০ এর নিচে নেমে এলে বিধিনিষেধ শিথিল হবে বলে জানিয়েছেন রাপোন্ডা। মার্চের মধ্যে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা এ পর্যায়ে নামিয়ে আনা যাবে বলেও আশা তার।

“স্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও জীবন বাঁচানোর জন্যই এসব বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে,” বলেছেন তিনি।