এক মাস ধরে চলা সংকট শেষ করতে আঞ্চলিক একটি জোটের কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি আর তার একদিন পর রবার বুলেট নিক্ষেপের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মঙ্গলবার মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানালেও ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের নেত্রী অং সান সু চির মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনর্বহালের আহ্বান জানাতে পারেনি।
১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সামরিক শাসনের অধীনে থাকা দেশটির গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রুদ্ধ হয়ে গেছে।
অভ্যুত্থানের পর থেকেই সামরিক শাসন বিরোধী গণতন্ত্রপন্থিরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। প্রথম দিকে সংযম দেখালেও গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ দমনে সহিংসপন্থা নিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশের গুলিতে এ পর্যন্ত অন্তত ২১ জন প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছেন।
বুধবার মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে পুলিশের রবার বুলেটে নয় জন জখম হয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা মিয়ানমার নাও জানিয়েছে।
অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে শহরটিতে কাঁদুনে গ্যাসের ধোঁয়ার মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে দেখা গেছে। শিক্ষকদের ইউনিফর্ম পরা এক নারী আর্তনাদ করে বলে ওঠেন, “ওহ্ আমার চোখ, চোখ ব্যথা করছে।”
নিশ্চিত হওয়া যায়নি এমন কয়েকটি প্রতিবেদনে মধ্যাঞ্চলীয় শহর মায়েনগিয়ান ও মাগওয়েতে গুলি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। মোনিওয়া শহরে পাঁচ জন আহত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গন থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে প্রতিবাদরত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।
এসব শহরের পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলীয় চিন রাজ্যে, উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন রাজ্যে, উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় শান রাজ্যে, মধ্যাঞ্চলের সাগাইং ও দক্ষিণাঞ্চলের দাউই শহরেও প্রতিবাদ হয়েছে বলে গণমাধ্যম ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
“এই দেশের কেউই একনায়কতন্ত্র চায় না, এটি তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ,” রয়টার্সকে বলেছেন চিন রাজ্যের আন্দোলনকারী সালাই লিয়ান।
মিয়ানমারের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়ে চললেও অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশন্স (এএসইএএন) এর সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রতি সংযম দেখানোর আহ্বান জানালেও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শুধু ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স ও সিঙ্গাপুর সু চি ও অন্যান্য বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।