ওয়েলিংটনে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে নিউ জিল্যান্ডকে
৬৪ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। রানের দিক থেকে এই সংস্করণে প্রতিবেশী দেশটির বিপক্ষে
এটা তাদের সবচেয়ে বড় জয়। ২০০৭ সালে পার্থে ৫৪ রানের জয় ছিল আগের রেকর্ড।
সফরকারীদের ২০৮ রান তাড়ায় কেন উইলিয়ামসনের
দল থামে ১৪৪ রানে। ব্যবধান কমিয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার দুইশ ছাড়ানো সংগ্রহ গড়ায়
সবচেয়ে বড় অবদান ম্যাক্সওয়েল ও ফিঞ্চের। ৩১ বলে ৭০ রানের খুনে ইনিংস খেলেন ম্যাক্সওয়েল।
প্রথম দুই ম্যাচে বড় রান না পাওয়া ওপেনার ফিঞ্চ করেন ৬৯।
বাঁহাতি স্পিনে নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে
দেন অ্যাগার। ৩০ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে তার তো বটেই অস্ট্রেলিয়ারও সেরা
বোলিং এটি। আগের সেরাও ছিল অ্যাগারেরই, ৫/২৪।
টস হেরে বুধবার ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া
দ্বিতীয় ওভারেই হারায় উইকেট। ট্রেন্ট বোল্টের বলে স্লিপে মার্টিন গাপটিলের হাতে ক্যাচ
দেন ম্যাথু ওয়েড।
শুরুর ধাক্কা দারুণ দক্ষতায় সামাল দেন
ফিঞ্চ ও জশ ফিলিপি। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক খেলেন আস্থার সঙ্গে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রানের
চাকায় দম দেন ফিলিপি।
ইশ সোধিকে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় লং অনে
ধরা পড়ে থামেন ফিলিপি। ২৭ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় এই তরুণ করেন ৪৩ রান। ভাঙে ফিঞ্চের
সঙ্গে তার ৫২ বলে ৮৩ রানের জুটি।
সোধির পরের ওভারে ছক্কা মেরে ৩৪ বলে ফিফটি
স্পর্শ করেন ফিঞ্চ। পরে এই লেগ স্পিনারের বলেই ফেরেন তিনি। ৪৪ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায়
করেন ৬৯।
ম্যাক্সওয়েলের শুরুটা ছিল একটু মন্থর।
পরে তোলেন ঝড়। যার বেশিরভাগই বয়ে গেছে জেমস নিশামের ওপর দিয়ে। ২৫ বলে ফিফটি করা এই
ব্যাটসম্যান নিশামের এক ওভারের ৬ বলেই মারেন বাউন্ডারি। দুটি ছক্কা ও ৪টি চার।
নিশাম ৪ ওভারে দেন ৬০ রান। টি-টোয়েন্টিতে
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে এর চেয়ে খরুচে বোলিং আছে কেবল একটি।
টিম সাউদিকে ছক্কা-চার মারার পর ওই ওভারেই
কট বিহাইন্ড হয়ে থামেন ম্যাক্সওয়েল। তার ৩১ বলের ইনিংস গড়া ৮ চার ও ৫ ছক্কায়।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় নিউ জিল্যান্ডকে শুরুতেই
চেপে ধরেন অভিষিক্ত রাইলি মেরেডিথ। নিজের পরপর দুই ওভারে টিম সাইফার্ট ও উইলিয়ামসনকে
ফিরিয়ে দেন ডানহাতি এই পেসার। দুইজনের কেউই যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।
দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন মার্টিন গাপটিল।
ফিফটির আগেই এই ওপেনারকে থামান অ্যাডাম জ্যাম্পা।
গ্লেন ফিলিপসকে ফিরিয়ে শিকার শুরু করেন
অ্যাগার। পরে থামান দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় থাকা ডেভন কনওয়েকে। ২৭ বলে ৫ চার ও এক
ছক্কায় তিনি করেন ৩৮ রান।
এরপর আর কাউকে দাঁড়াতে দেননি অ্যাগার।
নিশাম, মার্ক চাপম্যান, টিম সাউদি ও কাইল জেমিসনকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন তিনি। সোধিকে আউট
করে স্বাগতিকদের থামিয়ে দেন কেন রিচার্ডসন।
আগামী শুক্রবার চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে
মুখোমুখি হবে দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ২০৮/৪ (ওয়েড ৫, ফিঞ্চ ৬৯, ফিলিপি ৪৩, ম্যাক্সওয়েল
৭০, স্টয়নিস ৯*, মার্শ ৬*; সাউদি ৪-০-৩৭-১, বোল্ট ৪-০-৩৯-১, নিশাম ৪-০-৬০-০, জেমিসন
৪-০-৩৮-০, সোধি ৪-০-৩২-২)।
নিউ জিল্যান্ড: ১৭.১ ওভারে ১৪৪ (গাপটিল ৪৩, সাইফার্ট ৪, উইলিয়ামসন ৯, কনওয়ে
৩৮, ফিলিপস ১৩, নিশাম ০, চাপম্যান ১৮, সাউদি ৫, জেমিসন ১১, সোধি ১, বোল্ট ০*; জাই রিচার্ডসন
৩-০-৩৪-০, মেরেডিথ ৪-০-২৪-২, জ্যাম্পা ২-০-১৭-১, কেন রিচার্ডসন ২.১-০-১৭-১, অ্যাগার
৪-০-৩০-৬, স্টয়নিস ১-০-৬-০)।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৬৪ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যাশটন অ্যাগার
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ২-১ এ এগিয়ে