বুধবার বন্দরনগরীর টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত
করতে এসে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতের সহকারী হাই কমিশনার বলেন,
“উন্নয়নের
প্রধান পূর্বশর্ত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা নিশ্চিত
করেছেন বলেই বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।”
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী
ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতা
করায় ভারতের অনেকেই এবং বিদেশি কোনো কোনো রাষ্ট্র সমালোচনা করেছিল। ওই ভূমিকাকে তারা ‘ঝুঁকিপুর্ণ’ বলেছিল;
আর তৎকালীন পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষও বলেছিল তারা ‘বোঝামুক্ত’।
“আর এখন পাকিস্তানে অনেকেই বলছেন,
বাংলাদেশ যে
গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তা থেকে পাকিস্তানের অনেক কিছু শেখার আছে। কারণ বাংলাদেশ এখন
উদীয়মান ব্যাঘ্র।”
অনিন্দ্য ব্যানার্জী বলেন, ওষুধ শিল্প, তৈরি পোশাক রপ্তানি শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প
খাতে বাংলাদেশ ‘বেশ ভালো’ অবস্থানে আছে। বিকাশমান এই খাতগুলো
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধিতে গতিশীলতা এনেছে। পর্যটন শিল্প বিকাশে
বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাতের ধারাবাহিক উন্নয়ন
হলে তা দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত ও সমৃদ্ধ করবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহুমুখী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি
বলেন, “বন্দরকে ঘিরে রিজিওনাল কানেক্টিভিটি হলে
বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই উপকৃত হবে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল
নির্মাণ, পতেঙ্গায় উপকূলবর্তী বে-টার্মিনাল এবং মহেশখালীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প
বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটির সাথে সংযুক্ত হবে এবং বৈশ্বিক
আর্থিক সমৃদ্ধির অংশীদার হবে।”
মুজিব জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে মার্চের শেষ দিকে ভারতের
একটি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে বলে চট্টগ্রামের মেয়রকে জানান সহকারী
হাই কমিশনার।
কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশের ‘সাফল্যের’ প্রশংসা করে তিনি বলেন, “অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, কোভিড-১৯ সংক্রামণ ছোবলে বাংলাদেশের অবস্থা ভয়াবহ হবে। বাংলাদেশ
একটি ঘন বসতিপূর্ণ দেশ। বিশ্বের অনেক উন্নত ও ক্ষমতাধর দেশের চেয়ে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
“বাংলদেশ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে
আসছে এবং এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের
কারণে।”
তিনি চট্টগ্রামরে সৌন্দর্য বর্ধন ও মশার উপদ্রব কমানোর জন্য সিটি মেয়রের
দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ সময় সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম
চৌধুরী বলেন, “একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি মহান
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা ও অবদানের জন্য সে দেশের সরকার ও জনগণের প্রতি
কৃতজ্ঞতা জানাই। একাত্তরে ভারত আমাদের দেশের এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিল। তাদের
সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা ও জওয়ান প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। এই ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না।”
তিনি বলেন, যারা একসময় বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’
বলত, তারা এখন বাংলাদেশের নজীরবিহীন উন্নতি দেখে ‘লজ্জা’ পায় এবং তারাও স্বীকার
করে যে বাংলাদেশ
উন্নয়নের ‘রোল মডেল’।
রেজাউল করিম বলেন, নগরীর
সৌন্দর্যবর্ধন পরিকল্পিতভাবে করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রামে মেগা প্রকল্প
বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় খালের কোনো কোনো স্থানে বাঁধ দেওয়ার পানি জমে আছে। এ জন্য মশার প্রজনন হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে
মশার উপদ্রব অনেকটাই লাঘব হবে।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ভারপ্রাপ্ত সচিব ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এসময়
উপস্থিত ছিলেন।