শনিবার নরওয়ের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকা নেওয়া তিন স্বাস্থ্যকর্মী এখন হাসপাতালে রক্তক্ষরণ, রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যাওয়া সংক্রান্ত সমস্যায় চিকিৎসাধীন।
এ খবর পাওয়ার পর রোববার আয়ারল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রদান স্থগিত রাখার কথা জানায় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সির (ইএমএ) কাছ থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার এ টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত আরও তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত ভ্যাকসিনের প্রয়োগ সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
অ্যাস্ট্রাজেনেকা রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যে টিকা নেওয়া এক কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষের ওপর এ সংক্রান্ত একটি পর্যালোচনা চালিয়ে তারা ভ্যাকসিনটির সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকির কোনো সংযোগ পায়নি।
রক্ত জমাট বাঁধাজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে কারণ দেখিয়ে এর আগে ডেনমার্ক, নরওয়ে এবং আইসল্যান্ডও অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকা প্রদান স্থগিত করেছে।
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ দেখে মহাদেশটির বাইরের প্রথম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ডও ভ্যাকসিনটির প্রয়োগ দেরিতে শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়।
ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় পিদমন্ত অঞ্চল রোববার জানিয়েছে, শনিবার টিকা নেওয়ার পর এক শিক্ষকের মৃত্যুর কারণে তারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার একটি ব্যাচের টিকার প্রয়োগ বন্ধ রেখেছে। অস্ট্রিয়াও গত সপ্তাহে অ্যাস্ট্রাজেনেকার একটি নির্দিষ্ট ব্যাচের টিকার প্রয়োগ বাতিল করেছে।
আগের দিন শুক্রবার ইএমএ বলেছিল, ভ্যাসসিন দেওয়ার কারণেই যে রক্ত জমাট বাঁধাজনিত সমস্যার দেখা মিলছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও একই সুরে কথা বলছে।
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধে কিনা, ইএমএ এখন তা পর্যালোচনা করে দেখছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বন্ধ রাখার কোনো কারণ নেই: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
রক্ত জমাট বাঁধা নিয়ে আতঙ্ক, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রয়োগে দেরির সিদ্ধান্ত থাইল্যান্ডের