গ্রেপ্তাররা হলেন- নূরুল হক, আব্দুল আলিম ওরফে ইমন, মো. হৃদয় পাঠান ওরফে উজ্জ্বল পাঠান এবং এ এইচ রুবেল।
তাদের কাছ থেকে আটটি চোরাই প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের ‘সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ, গাড়ি চুরি প্রতিরোধ ও উদ্ধার’ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আশারাফুল ইসলাম।
সম্প্রতি রাজধানীর কাফরুল ও গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে
মিরপুর বিআরটিএ অফিসের উল্টো দিকের রাস্তা থেকে একটি প্রাইভেট কার চুরির ঘটনায় গত ২১ জানুয়ারি কাফরুল থানায় মামলা হলে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
আশারাফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল হতে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এরপর ২৮ জানুয়ারি চোরাই প্রাইভেটকারসহ নূরুল হককে (২৪) পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
নুরুল হকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১২ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানা এলাকা থেকে আরেকটি চোরাই প্রাইভেটকার এবং একটি মাইক্রোবাসসহ আব্দুল আলিম ওরফে ইমনকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ১৬ মার্চ হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানা থেকে মো. হৃদয় পাঠান ওরফে উজ্জ্বল পাঠান (২৯) এবং এ এইচ রুবেলকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।
সহকারী কমিশনার আশারাফুল জানান, “গাড়ি চুরির এই চক্র কয়েকটি ভাগে কাজ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, এদের দুই থেকে তিন জনের একেকটি দল বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুর গাড়ি টার্গেট করে। তারপর সুযোগ বুঝে নকল চাবি ব্যবহার করে সেসব গাড়ি চালিয়ে নিয়ে চলে যায়। তখন চক্রের অন্যরা সামনে ও পেছনে বাইক বা অন্য কোনো গাড়িতে থাকে।”
প্রাথমিকভাবে চোরাই গাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, পূর্বাচল বা কাচঁপুর ব্রিজের দিকে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে অন্য চালক গাড়িগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ বা মৌলভীবাজারের চোরাই গাড়ি বিক্রির সিন্ডিকেটের কাছে পৌঁছে দিত। তারপর সেখান থেকে সেগুলো অন্য কোনো চালকের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় নিয়ে যাওয়া হত বলে জানান আশারাফুল।
তিনি বলেন, বিআরটিএ এর সীল এবং সই জালিয়াতি করে গাড়ির কাগজপত্র তৈরি করা হত। মূল মালিকের নামের সাথে মিল রেখে তৈরি করা হত নকল দলিল ও আদালতের সই স্বাক্ষর সম্বলিত নিলামের নকল কাগজপত্র। এরপর কম দামে সেই গাড়ি বিক্রি করে দিত চক্রের সদস্যরা।
এ চক্রের সদস্যরা কিছু গাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার কাজেও ব্যবহার করত বলে জানান আশরাফুল।