রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের
শুনানি নিয়ে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান রোববার এই আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে
শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মোরশেদ। আর ইরফান সেলিমের পক্ষে ছিলেন
আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি
জেনারেল মোরশেদ পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ইরফান সেলিমের
জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিলাম। হাই কোর্ট যে জামিনটা দিয়েছিল, তা চার সপ্তাহের
জন্য স্থগিত করে দিয়েছেন চেম্বার আদালত।”
গত ২৭ জানুয়ারি এ মামলায়
ইরফান সেলিমের জামিন প্রশ্নে দুই সপ্তাহের রুল দেয় হাই কোর্ট। তাকে কেন জামিন দেওয়া
হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে।
পরে গত ১৮ মার্চ বিচারপতি
জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ রুল যথাযথ ঘোষণা
করে ইরফান সেলিমকে জামিন দেয়।
সেদিন ইরফান সেলিমের
আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “তিনি দুটি মামলা থেকে
অব্যাহতি পেয়েছেন। আজকে হাই কোর্ট এ মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন। আজকের জামিন আদেশের
অনুলিপি পেলেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।”
কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের
আবেদনে রোববার চেম্বার আদালত সে জামিন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেওয়ায় আপাতত তার
মুক্তির সুযোগ নেই বলে জানান রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা শেখ মো. মোরশেদ।
গত বছর ২৪ অক্টোবর
রাতে ধানমণ্ডি এলাকায় সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে নেমে
নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় হাজী সেলিমের
ছেলে ইরফানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওয়াসিফ।
হাজি সেলিমের প্রটোকল
অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু, ওই গাড়িতে থাকা সেলিমের দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ ও মিজানুর
রহমানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও তিনজনকে আসামি করা হয় সেখানে।
পরদিন ২৫ অক্টোবর পুরান
ঢাকার সোয়ারিঘাটের দেবীদাস লেইনে হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায় র্যাব।
আটক করা হয় ইরফান ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে।
ওই ভবন থেকে দুটি অবৈধ
পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার
করার কথা সে সময় র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মদ আর ওয়াকিটকির জন্য
ইরফান ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ
আদালত।
পরে ইরফান সেলিমকে
কারাগারে পাঠানো হয়। অস্ত্র ও মাদক আইনে আলাদা মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। ওয়ার্ড
কাউন্সিলরের পদ থেকেও বরখাস্ত হন তিনি।
পরে পুলিশ চূড়ান্ত
প্রতিবেদন দিলে ইরফান সেলিমকে মাদক ও অস্ত্র মামলা থেকে অব্যাহতি দেয় আদালত।
তবে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে
‘মারধরের’ মামলায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি ইরফানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
পুরনো খবর:
‘মারধরের’ মামলায় জামিন, ইরফানের মুক্তিতে ‘বাধা নেই’
মাদক মামলা থেকেও ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি
নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারপিটের মামলায় ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
দুই মামলায় ইরফানের ‘অব্যাহতি’ চেয়ে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন
নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধর: ইরফানের দেহরক্ষীর দোষ স্বীকার
ইরফান সেলিম ও দেহরক্ষীর ১
বছর করে কারাদণ্ড