বৃহস্পতিবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা তারিখ ছিল। কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ায় বিচারক রায়ের জন্য ১১ এপ্রিল নতুন দিন রেখেছেন।
গত ২২ মার্চ রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলা রায়ের পর্যায়ে আসে। প্রবীর সিকদারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী আমিনুল গণী টিটো।
ফেইসবুকে লেখার মাধ্যমে সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনর ‘সুনাম ক্ষুণ্ণের’ অভিযোগ এনে ২০১৫ সালের ১৬ অগাস্ট ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় প্রবীরের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় এ মামলা করেন এপিপি স্বপন পাল।
শহীদ পরিবারের সন্তান প্রবীর ওই বছর ১০ অগাস্ট এক ফেইসবুক পোস্টে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, তার কিছু হলে খন্দকার মোশাররফ, বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের ওরফে নুলা মুসা এবং ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার এবং তার অনুসারী-সমর্থকরা দায়ী থাকবেন।
একাত্তরে শহীদের সন্তান প্রবীর সিকদার উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ এবং দৈনিক বাংলা ৭১ নামের পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। তিনি এর আগে সমকাল ও কালের কণ্ঠে কাজ করেছেন।
২০০১ সালে দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদপুর প্রতিনিধি থাকার সময় সন্ত্রাসীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গু জীবন যাপন করছেন তিনি।
ফেইসবুকে লেখালেখির কারণে হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়ে ২০১৫ সালে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গিয়েছিলেন প্রবীর সিকদার। কিন্তু পুলিশ তা নেয়নি বলে ফেইসবুকে এক লেখায় তিনি জানান।
মন্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ফেইসবুক পোস্টের পর ওই বছরের ১৬ অগাস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর ইন্দিরা রোডের কার্যালয় থেকে প্রবীরকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। রাতেই তাকে নেওয়া হয় ফরিদপুরে।
এরপর ফরিদপুরের এপিপি স্বপন পাল তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করলে সে সময় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তথ্য-প্রযুক্তি আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয় বিভিন্ন মহল থেকে।
ওই মামলায় সাংবাদিক প্রবীরকে রিমান্ডেও পাঠিয়েছিল আদালত। তবে রিমান্ডের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই জামিনে মুক্তি পান প্রবীর সিকদার। পরে আদালত তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মনির হোসেন ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ ফরিদপুরের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে বিচারক মামলাটি ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে পাঠান।
ওই বছর ৪ অগাস্ট ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম শামসুল আলম এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেন।
এ আইন অনুযায়ী, কেউ ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে কোনো কিছু প্রকাশের মাধ্যমে কারও মানহানি ঘটলে বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে প্রমাণিত হলে তার ৭ থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।