এই
ঘটনায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ২ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি
মো. মোনায়েম খান শুক্রবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
হেফাজতে
ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. ওলিয়ার রহমান
ওরফে ওলি মিয়াকে গত সোমবার আওয়ামী লীগ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ওলিয়ার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৪
নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
ওলিয়ারকে ‘জামাতা’ মামুনুল হক সম্পর্কে তথ্য গোপন করা, মেয়ে
‘অবৈধ’ কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা, ওলিয়ারের ‘স্ত্রী জামায়াতপন্থী’ হওয়া এবং হেফাজতে
ইসলামের সঙ্গে পরিবারের সংশ্লিষ্টতার বিষয় গোপন করার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দেওয়া ওই নোটিশে।
ওয়ালিয়ার
রহমানকে কেন দলের পদ থেকে সাময়িকভাবে ‘বহিষ্কার’ করা হবে না, তা সাত কর্মদিবসের
মধ্যে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়।
সাধারণ
ডায়েরিতে মোনায়েম খান উল্লেখ করেন, ওলিয়ার রহমানের পরিবারবর্গ হেফাজতের সঙ্গে জড়িত
থাকায় আওয়ামী লীগের কর্মপরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থাকায় গত ১২ এপ্রিল তাকে কারণ
দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
“ওই
নোটিশ দেওয়ার পর দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টা থেকে শুরু করে ৭টার
মধ্যে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ০০৩৯৩২৯১০৭৪১৮০, +৬০১১১৬৭০৪৮৪০, +৩৭০৫৭৭৯ নম্বর থেকে আমার
ব্যক্তিগত নম্বরে কল করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়।”
এছাড়া,
একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিনের মোবাইল নম্বরে +৩১৩২৬৫৫
নম্বর থেকে ফোন করে মামুনুল হক পরিচয় দিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং
জীবননাশের হুমকি দেয় বলেও ডায়েরিতে অভিযোগ করা হয়।
ফরিদ
উদ্দিন বলেন, “ওলিয়ার রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ায় আমার ব্যক্তিগত মোবাইলে
মামুনুল হক পরিচয় দিয়ে ফোন দেন। আমাকে অশ্লীল গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের
হুমকি দেওয়া হয়।”
তিনি আরও
বলেন, “আমাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়- তোর মন যা খেতে চায় তাই খেয়ে নে, আর বেশি দিন
বাঁচতে পারবি না।”
আলফাডাঙ্গা
থানার ওসি ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন
গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মোনায়েম খান। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে
দেখছি।”
এদিকে,
এই বিষয়ে ওলিয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের
সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীসহ মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে স্থানীয় লোকজন। খবর
পেয়ে হেফাজত সমর্থক ও মাদ্রাসা ছাত্ররা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে তাকে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর তা গণমাধ্যমসহ সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার পায়। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে স্ত্রীর সঙ্গে মামুনুলের একটি
অডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।
অডিওর কথোপকথনের বিষয় নিয়ে
ফেইসবুক লাইভে এসে মামুনুল বলেন, স্ত্রীকে খুশি করতে ‘প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সীমিত
পরিসরে সত্যকে গোপন করার অবকাশ রয়েছে।’
অডিও প্রকাশকে ব্যক্তিগত অধিকার
লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করে মামুনুল এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার
হুমকি দেন।