কিংসমিডে দ্বিতীয় ইনিংসের নিদারুণ ব্যর্থতায় ২২০ রানে প্রথম টেস্টে হেরেছে বাংলাদেশ। সাত উইকেট হাতে নিয়ে সোমবার তারা ব্যাট করতে পারে কেবল ১৩ ওভার। কেশভ মহারাজ ও সাইমন হার্মারের স্পিনের কোনো জবাব জানা ছিল না মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, ইয়াসির আলি চৌধুরিদের।
এমন ভরাডুবির পরও ইতিবাচক অনেক কিছুই চোখে পড়ছে মুমিনুলের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানালেন পরের টেস্টে ভালো করার আশাবাদ।
“এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো যাবে। ঘুরে দাঁড়াতে না পারার তো কোনো কারণ নাই। আমরা পাঁচ দিনের মধ্যে চারটা দিন খুব ভালো খেলেছি। শুধু শেষ দিনটায় খুব বাজে ব্যাটিং করেছি। বিশেষ করে কালকের শেষ সেশনটা, তারপর আজকের প্রথম সেশনটা।”
“তো এখানে অনেক ইতিবাচক ব্যাপার আছে, যেটা দেখে আমার মনে হয়, আমরা সহজেই ঘুরে দাঁড়াতে পারব। (মাহমুদুল হাসান) জয় খুব ভালো একটা ইনিংস খেলেছে, ১৩৭ রানের। লিটন (দাস) ভালো ব্যাটিং করেছে। (ইয়াসির) রাব্বি ভালো ব্যাটিং করছে, (মেহেদী হাসান) মিরাজও ভালো করছে।”
নিজেদের ইতিহাসে দেশের বাইরে এই টেস্টে কেবল অষ্টমবারের মতো প্রতিপক্ষকে দুইবার অলআউট করতে পারে বাংলাদেশ। বোলিংয়ে প্রাপ্তি আছে বেশ কিছু। শরিফুল ইসলামের চোটে সুযোগ পাওয়া সৈয়দ খালেদ আহমেদ প্রথম ইনিংসে নিয়েছেন চার উইকেট। ভালো করেছেন পরের ইনিংসেও। ইবাদত হোসেন উজাড় করে দিয়েছেন নিজেকে। ডান কাঁধে সমস্যা নিয়েও ভালো করেছেন তাসকিন আহমেদ।
একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে খেলা মিরাজ ওভারের পর ওভার করে গেছেন নিয়ন্ত্রিত বোলিং। তাসকিন ও শরিফুলকে যদিও দ্বিতীয় টেস্টে পাওয়া যাবে না। যাদের পাওয়া যাবে, তাদের নিয়েই বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া পরের টেস্টে দারুণ কিছুর সম্ভাবনা দেখছেন মুমিনুল।
“বোলাররা খুবই ভালো করেছে। মিরাজ ছিল অসাধারণ। এই উইকেটে প্রথম থেকে সে খুব ভালো বোলিং করেছে। পেস বোলাররাও খুব ভালো বোলিং করেছে। আমরা যে পাঁচ দিনই খারাপ খেলেছি, তা তো না। শেষ দিনটা আমরা বাজে খেলেছি, যে কারণে ম্যাচটা আমাদের হাত থেকে চলে গেছে। আর টেস্ট ক্রিকেটে এক দিন খারাপ করলে সেখান থেকে ফেরা খুব কঠিন। আমার মনে হয়, আমাদের মানসিকভাবে আরও দৃঢ় হয়ে এই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।”