সোমবার ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা ফাওয়াদ চৌধুরি একথা জানিয়েছেন বলে জানায় ‘দ্য ডন’ পত্রিকা।
গুলজার ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন ।
ফাওয়াদ বলেন, পিটিআই এর কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী গুলজারের নাম প্রস্তাবের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্টকে লেখা প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পড়ে শোনান।
চিঠিতে লেখা ছিল, ‘‘তত্ত্ববধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গুলজার আহমেদের নাম (যিনি পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ছিলেন) বিবেচনা করার প্রস্তাব করছি।”
এই চিঠির আগে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সোমবার সকালে ইমরান খান এবং সদ্য বিলুপ্ত আইন সভার বিরোধী দলের নেতা শাহবাজ শরীফকে চিঠি লিখে সংবিধানের ২২৪ অনুচ্ছেদের এ(১) ধারা অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের নামের তালিকা পাঠানোর অনুরোধ করেন।
গত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রথমে ইমরান খান সরকারের শরিক জোটের এবং তার দলের কয়েকজন এমপির দলত্যাগ, তারপর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব, তা নিয়ে জাতীয় পরিষদে হইচই এবং সর্বশেষ খানিকটা নাটকীয় ভাবে ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরির প্রধানমন্ত্রী ইমরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত অনাস্থা ভোট আটকে দেওয়া।
অনাস্থা ভোট বাতিল হওয়ার পর রোববার ইমরান খান জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে প্রেসিডেন্টকে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া এবং নতুন নির্বাচন ডাকার পরামর্শ দেন। যাতে সাড়া দিয়ে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি পার্লামেন্ট ভেঙে দেন।
পাকিস্তানের সংবিধানে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন করার কথা রয়েছে।
পার্লামেন্ট থেকে উৎখাত হওয়া এড়াতে ইমরান খান পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার কৌশলে জিতে গেলেও অনাস্থা প্রস্তাব বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেছেন বিরোধীরা। তাই ইমরানের ভাগ্য এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।