ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন
সরকারি তথ্য অনুসারে এ বছর বাংলাদেশে আউশ, বোরো ও আমনে রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে; সেই সঙ্গে মজুদও রয়েছে পর্যাপ্ত। সেই হিসেবে চালের দাম যতটা কত হওয়ার কথা ততটা কম কি?
মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুরে চৌ কিট এলাকায় মাসিক বাজার করতে সুপারশপ ঘুরে আমার মনে হয়েছে এখানে চালের দাম বাংলাদেশের চেয়েও কম।
মালয়েশিয়ায় উন্নতমানের প্যাকেটজাত ১০ কেজি সরু চালের দাম ২৫ রিঙ্গিত ৫০ সেন্ট। এক রিঙ্গিত বাংলাদেশের টাকায় ২০ টাকা ৫০ পয়সার কাছাকাছি; তাতে মালয়েশিয়ার এক কেজি সরু চালের দাম বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ৫২ টাকা ২৭ পয়সা।
বাংলাদেশে প্রাণ গ্রুপের প্যাকেটজাত ৫ কেজি মিনিকেট চালের দাম ৩৬০ টাকা অর্থ্যাৎ প্রতি কেজি ৭২ টাকা।

সরকারি ভাষ্যে, আউশ আবাদের এলাকা বাড়ার পাশাপাশি হেক্টরপ্রতি গড় ফলনও বেড়েছে দেশে।
২০১৭-১৮ মৌসুমে হেক্টর প্রতি আউশ চাল উৎপাদন হয়েছিল ২ দশমিক ৯৮ মেট্রিক টন; ২০১৮-১৯ মৌসুমে তা বেড়ে হেক্টরপ্রতি ৩ দশমিক শূন্য ৪ মেট্রিক টনে দাঁড়ায়।
শুধু কি তাই? ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড দুই কোটি টনেরও বেশি বোরো উৎপাদন হয়েছে, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় ২০২১-২০২২ সময়ে বার্ষিক চাল উৎপাদন প্রায় ১৬ লাখ ৬৪ হাজার টন। চালের চাহিদার ৭০ শতাংশ মালয়েশিয়ায় উৎপাদন হয় এবং ৩০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভর করে দেশটি।
এরপরও মালয়েশিয়ায় চালের দাম কেজি প্রতি ৫২ টাকা ২৭ পয়সা। আর রেকর্ড পরিমাণ ধান উৎপাদন করেও কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে শেষ পর্যন্ত চালের দাম বেশি গুণতে হচ্ছে।