ক্যাটাগরি

সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা বাড়ার দাবি পাকিস্তানের

পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধ না বাড়িয়ে বরং আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রোববার মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘গত কয়েক দিনে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘাত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যেখানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তের ওপার থেকে হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।”

পাকিস্তানের দাবি, গত বৃহস্পতিবার তাদের উত্তর ওয়াজিরিস্তান সীমান্ত এলাকায় সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।

পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তান সীমান্তের ওপারেই আগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশ। শুক্রবার মধ্যরাতের পর পাকিস্তান যেখানে বিমান হামলা করেছে বলে দাবি তালেবান কর্মকর্তাদের।

এক তালেবান কর্মকর্তা বলেন, “খোস্ত প্রদেশের ডুরান্ড লাইনের কাছে ৪টি গ্রামে পাকিস্তানি হেলিকপ্টার ৪টি গ্রামে গোলা ছুড়েছে।”

বেসামরিকদের বাড়িঘর লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে কয়েকজন হতাহত থাকতে পারে বলেও দাবি করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা।

আরেক কর্মকর্তা অন্তত ৩৫জন নিহত হয়েছে বলে জানান। খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানের হেলিকপ্টার আফগান আকাশসীমার ভেতরে ঢুকে হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি তাদের।

কাছাকাছি সময়ে আফগানিস্তানের সীমান্ত অঞ্চল কুনারের শেলটন জেলায় পাকিস্তানের রকেট হামলায় পাঁচ শিশু ও এক নারী নিহত এবং একজন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান।

হামলার ওই ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যথেষ্ট উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। তালেবান কর্তৃপক্ষ শনিবার কাবুলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে।

তাছাড়া, শনিবার সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, “পাকিস্তানের দিক থেকে আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে ছোড়া গোলা ও হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান।”

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আফগানিস্তানে হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তাদের হেলিকপ্টার থেকে হামলা হয়েছে কিনা সে বিষয়েও তারা কিছু বলেনি।

তবে কাবুলে পাকিস্তানের দূতাবাস থেকে হামলা চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। ‘দ্য ইউনাইটেড নেশন্স অ্যাসিসটেন্স মিশন ইন আফগানিস্তান’ (ইউএনএএমএ) এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গত বছর তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ইসলামাবাদের ভাষ্য, সশস্ত্র অনেকে গোষ্ঠী আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।

তালেবান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানি মিলিশিয়াদের আশ্রয় দেওয়ার কথা অস্বীকার করছে।