ক্যাটাগরি

দেশে নয়, দুর্দিন বিএনপির রাজনীতিতে: কাদের

শনিবার নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সে
যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, “সরকার নাকি দেশকে বিরোধী দলহীন করার চেষ্টা করছে, প্রকৃতপক্ষে
গণতন্ত্রের অব্যাহত এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও মজবুত করতে সরকার শক্তিশালী এবং আরও দায়িত্বশীল
বিরোধী দল চায়। শেখ হাসিনা সরকার সমালোচনায় ভয় পায় না, গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানাই।
কিন্তু বিএনপির অপরাজনীতির জন্যই জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

“তারা জয়ী হওয়ার জন্য নয়, নির্বাচনে আসে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য।
পোলিং এজেন্ট না দিয়ে নির্বাচন বয়কট করে সংবাদ সম্মেলন করছে। বিএনপি প্রকারান্তরে নিজেরাই
নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছে।”

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে, দেশে এখন দুর্দিন নেই।
প্রকৃতপক্ষে দুর্দিন দেশে নয়, ভয়াবহ দুর্দিন চলছে বিএনপির রাজনীতিতে। বিএনপির রাজনৈতিক
মনস্তত্ব এখন দুর্দশাগ্রস্ত।বিএনপি চরম হতাশায় নিমজ্জিত।”

বিএনপি হাতের তালু দিয়ে আকাশ ঢাকার অপচেষ্টা করছে দাবি করে সড়ক পরিবহন
ও সেতুমন্ত্রী বলেন, “দেশে কোনো একদলীয় শাসনব্যবস্থা নেই, আছে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা,
আছে কার্যকর সংসদ অথচ বিএনপি মহাসচিব তথাকথিত একদলীয় শাসনের অবসান ঘটাতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার
আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপি উন্নয়ন ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকেই ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান
জানিয়েছে। বিএনপি এখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সাথে গোপন সখ্যতা গড়ে তুলে দেশকে অস্থিতিশীল
করার অপচেষ্টা করছে।

“এদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চ্যালেঞ্জ করা হয় তখনও বিএনপি প্রকাশ্যে
একটি বাক্য বলারও সাহস দেখাতে পারেনা, অথচ তারা বলে দলে নাকি মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা
বেশি। তাদের বর্ণচোরা আর গোপন ষড়যন্ত্রের রাজনীতির কারণে জনগণ মনে করে ভাস্কর্য অবমাননার
মূল পরিকল্পনাকারী ও কুশীলব বিএনপি।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, “দেশের মানুষ ও অর্থনীতি করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা
করে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, অর্জন করেছে ঈর্ষনীয় প্রবৃদ্ধি। গ্রাম হতে শহরের প্রতিটি
সেক্টরে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন দৃশ্যমান।”

সঠিক সময়ে সম্মেলন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন,
“সঠিক সময়ে সম্মেলন না হলে নেতৃত্বের ট্রাফিক জ্যাম হয়ে যায়, কর্মীরা নিজের বাড়িতে
পরিচয় দিতে পারে না। সুতরাং আজকে আমাদের এই শপথ নিতে হবে যে আমরা সঠিক সময়ে সম্মেলন
দিব।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে
না বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বিদ্রোহীদের মনোনয়ন দিলে তারা প্রশ্রয় পেয়ে যাবে,
দলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে, তাই এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ অনেক কঠোর।

“দল করতে হলে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে আওয়ামী
লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থানে। যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন,
যে স্তরের জনপ্রতিনিধিই হোক না কেন, শৃঙ্খলা না মেনে আওয়ামী লীগ করতে পারবে না।”

মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে সম্মেলনে
উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা
বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রোকেয়া সুলতানা, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সংসদ সদস্য
এমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেক, রাজশাহী মহানগর
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার প্রমুখ।