ক্যাটাগরি

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ‘বধ্যভূমিতে পরিণত’: রিজভী

সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচির একদিন আগে রোববার এক সংবাদ
সম্মেলনে তার এমন মন্তব্য আসে।

রিজভী বলেন, “প্রতিবেশী দেশ
হিসেবে ভারতের সাথে সমমর্যাদা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে সুসম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু
সীমান্তে বাংলাদেশিদের পাইকারি হারে খুন করে যাবে, অথচ শুধু চুপচাপ নয়, বাংলাদেশ সরকার বরং
বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যার বৈধ্যতা দিচ্ছে।”

তার ভাষায়, “ভোটারবিহীন সরকারের
নতজানু পরররাষ্ট্র নীতির কারণে পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে রক্তাক্ত সীমান্ত এখন
বাংলাদেশের সীমান্ত। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা দক্ষিণ এশিয়ার একটি ভয়ঙ্কর
বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে।”

সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে বিএনপি সোমবার সারা দেশে জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে
কালো পতাকা উত্তোলন করবে, নেতা-কর্মীরা কালো
ব্যাজ ও কালো পোশাক পরবেন। গত সাপ্তাহে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই কর্মসূচি
চূড়ান্ত করা হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে রিজভী বলেন, “এই সরকারের গত ১২ বছরে প্রায় সাড়ে ৫ শ বাংলাদেশিকে সীমান্তে
হত্যা করেছে বিএসএফ। এই করোনার মধ্যেও গত প্রায় এক বছরে প্রতিবেশি দেশের
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে খুন হয়েছে ৪৫ জন বাংলাদেশি। সীমান্তের নোম্যান্স
ল্যান্ড ও নদীতে প্রায়ই বাংলাদেশিদের রহস্যজনক লাশ পাওয়ার খবর আসে।”

এসব ঘটনার বিজিবির তরফ থেকে পতাকা বৈঠক করে লাশ গ্রহণ ছাড়া ‘ভরসা রাখার মত
কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না’ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা রিজভী।

গত ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত শীর্ষ সম্মেলনের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রীর
বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন,
“তিনি
নির্লজ্জভাবে বলেছেন, সীমান্ত হত্যায় ভারত
একতরফভাবে দায়ী নয়। আমাদের কিছু দুষ্ট ব্যবসায়ী অবৈধভাবে সীমান্তের ওপারে যায় এবং
তাদের কাছে অস্ত্র থাকে। তখন ভারত বাধ্য হয়ে ভয়ে ওদের গুলি করে।

“কিছুদিন আগে খাদ্যমন্ত্রী
সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছিলেন, ভারতীয়
সীমান্তরক্ষীদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। কাঁটাতারের বেড়া কেটে গরু আনতে গিয়ে ইনডিয়ার
গুলি খেয়ে মারা যায়, তার জন্য
দায়-দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকার নেবে না।”

রিজভী বলেন, “এই দুই মন্ত্রীর
বক্তব্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরোধী।… নতজানু মিডনাইট সরকারের
মন্ত্রীদের এসব বক্তব্য শুনলে মনে হয় তারা স্বাধীন দেশের মন্ত্রী নন, তারা অন্য কোনো দেশের প্রতিনিধি।”

অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব,
নির্বাহী
কমিটির সদস্য রবিউল আলম ররি, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহিম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।